বৃহস্পতিবার  ২২শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং  |  ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ১৪ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তীক্ষ্ন নজরে থাকবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

ডিএ: তথ্যপ্রযুক্তির জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর দিকে তীক্ষ্ন নজর রাখবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। রাষ্ট্রবরোধী অপপ্রচার, গুজব, মিথ্যা তথ্য, উস্কানিমূলক কর্মকান্ডের জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেজন্য জন্য একটি প্রকল্পের মাধ্যমে জননিরাপত্তা বিভাগ ১২১ কোটি টাকা চেয়েছে। মূলত সংসদ নির্বাচনের সময়ে নজরদারি বাড়ানো হবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে মাত্র ৪ মাস। নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে প্রকল্পটি চলবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ওই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন মিডিয়া কনটেন্ট তৈরি করা হবে। তাছাড়া বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রণয়ন এবং বিভিন্ন রকম যন্ত্রপাতি কেনা হবে। তবে প্রকল্পের কোনো ক্রয় কাজ দরপত্রের মাধ্যমে হবে না। প্রকল্প প্রস্তাবে ক্রয় কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন এবং জননিরাপত্তা বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রকল্পটির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন রকম গুজব, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট তদারকির দ্বারা তাৎক্ষণিক সত্য ঘটনাও জনগণের সামনে তুলে ধরে বিভ্রান্তি দূর করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যেসব ফেসবুক পেজ বা আইডি থেকে বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালানো হবে, ওই ব্যাপারে রিপোর্ট করা এবং সেগুলো বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যে প্রকল্প প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুককেন্দ্রিক কয়েকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। কারণ আন্দোলনকে পুঁজি করে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ফেসবুক এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক তথ্য প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়েছিল। স্বার্থান্বেষী মহল দেশ ও বিদেশ থেকে সমান তালে ওই ধরনের কর্মকা-ের মাধ্যমে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চালিয়েছিল। তাছাড়া ওই মহল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন, সরকারি, বেসরকারি দপ্তরগুলোতে মিথ্যা তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশকে হেয় করার চেষ্টাও চালিয়েছে। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্নকারী ফেসবুক ও ইউটিউবসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো চিহ্নিত করা গেলেও তাদের ব্যক্তি পরিচয় অনেক সময়ে বের করা সম্ভব হয় না। এমন অবস্থায় রাষ্ট্রবিরোধী অপশক্তিকে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মেয়াদ মাত্র ৪ মাস। এই স্বল্প সময়ে প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কি-না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে ১২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন হবে। তবে মধ্য মেয়াদি বাজেট কাঠামোর (এমটিবিএফ) আওতায় প্রকল্পটির অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হবে কিনা তা এখনও নিশ্চত নয়। সেক্ষেত্রে সংস্থার অন্য কোনো প্রকল্প থেকে অর্থ নিয়ে ব্যবহার করা হতে পারে।
এদিকে সাইবার পুলিশ সেন্টার করার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) নতুন ইউনিট হিসেবে ওই সেন্টার হবে। অতিসম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাবলিক সিকিউরিটি ডিভিশন এই অনুমোদন দিয়েছে। মূলত সারা দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুজব প্রতিরোধের কাজ করবে নতুন এই ইউনিট। নতুন ওই সেন্টার ৩৪২ সদস্য নিয়ে গঠন করা হবে। আর সেন্টারের দায়িত্বে থাকবেন সিআইডির একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সেন্টার গঠনের কাজ শেষ হবে। এই ইউনিটের ৩৪২ সদস্যের অন্যান্য পদে থাকবে ২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৩ জন পুলিশ সুপার, ৬ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ১৮, পরিদর্শক ৪৫, উপ-পরিদর্শক (এসআই) ১৪০, সহকারী উপৎপরিদর্শক (এএসআই) ৩০, কনস্টেবল ৭৫, সিস্টেম অ্যানালিস্ট একজন, প্রোগ্রামার একজন ও মেইনটেন্যান্স পদে প্রকৌশলী একজন। তার বাইরেও টেলিযোগাযোগ অধিদফতর কনটেন্ট ফিল্টারিংয়ের একটা প্রজেক্ট করছে, যা নভেম্বরের আগেই কাজ শুরু করবে।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com