বুধবার  ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং  |  ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ৫ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

আপিলেও খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল

ডিএ: মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে খালেদা জিয়া আপিল টেকেনি। শনিবার ইসির এই সিদ্ধান্তের ফলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকল না কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসনের। অবশ্য ইসির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার পথ খোলা রয়েছে খালেদা জিয়ার। কিন্তু দুই বছরের বেশি সাজায় দন্ডিতদের নির্বাচন করার পথ যে বন্ধ, তা ইতোমধ্যে আদালতেরই আদেশে এসেছে। তিন যুগ আগে খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম তাকে ছাড়াই জাতীয় নির্বাচন করতে হচ্ছে বিএনপিকে। এই অবস্থাকে ‘দুর্দিন’ হিসেবে দেখছেন দলটির নেতারা। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজার রায়ের পর গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন ৭২ বছর বয়সী খালেদা জিয়া। এর মধ্যে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলায়ও তার সাজার রায়ও হয়। তখন থেকে বিএনপির আইনজীবীরা বলে আসছিলেন, বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন খালেদা। কিন্তু সম্প্রতি বিএনপির কয়েকজন নেতার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের এই আদেশে দ-িতদের নির্বাচন অংশ নেওয়া আটকে যায়। হাই কোর্টের আদেশে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দন্ড হলে সেই দন্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিলে ওই দন্ড বাতিল বা স্থগিত হয়। তার মধ্যে হাই কোর্টের আরেকটি বেঞ্চ ভিন্ন আদেশ দিলেও আপিল বিভাগে গিয়ে তা আটকে গেলে দন্ডিতদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ আর খোলেনি। এর মধ্যে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষে ফেনী-১ এবং বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপি নেতারা। কিন্তু গত ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ের সময় দ-ের কারণ দেখিয়ে তা বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই তিনটি আসন থেকেই নির্বাচিত হয়েছিলেন খালেদা; তার আগে ১৯৯১ সাল থেকে পরের তিনটি নির্বাচনে পাঁচটি আসনে ভোট করে সবগুলোতে জয়ী হয়ে আসছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। রিটার্নিং কর্মকর্তারা এবার মনোনয়নপত্র বাতিল করলে বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, ভোটের দায়িত্বে আসা সরকারি ওই কর্মকর্তারা ‘সরকারের ইঙ্গিতেই’ ওই পদক্ষেপ নিয়েছেন। ইসিতে আপিলে ‘ন্যায়বিচারে’ দলীয় চেয়ারপারসন প্রার্থিতা ফিরে পাবেন বলে গতকাল শনিবার দুপুরেও এক সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করেছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার মধ্যেই নির্বাচন ভবনে সিইসি কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন আপিল কর্তৃপক্ষ খালেদার আবেদনের শুনানি নেয়। এতে খালেদার পক্ষে ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। শুনানির সময় সিইসি নূরুল হুদা খালেদার আইনজীবীকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য তুলে ধরতে বলেন। নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলামও বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় জানতে চান আইনজীবীর কাছে। শুনানি শেষে ইসি খালেদার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বিকালে দেবে বলে জানায়। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে গিয়ে জানিয়ে আসে, কোনো চাপের মুখে যেন সাংবিধানিক সংস্থাটি নতি স্বীকার না করে। এরপর সন্ধ্যায় ইসি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় যে খালেদা জিয়ার তিনটি আবেদনের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তই বহাল। সিইসি নূরুল হুদার নেতৃত্বে পুরো কমিশন এই শুনানি নেয়। সিইসি ও তিন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আপিল আবেদন নামঞ্জুর করেন। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন মঞ্জুরের পক্ষে মত দেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। ইসি সিদ্ধান্ত জানানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপির আইনজীবীরা। বিএনপির যুগ্মমহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, বেগম জিয়ার মনোনয়নপত্র নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। মাহবুব তালুকদারের সিদ্ধান্ত ‘ফেয়ার’ ছিল বলে দাবি করেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com