মঙ্গলবার  ১৮ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং  |  ৪ঠা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ১১ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

এলপিজি বোতলজাত ও বিপণন তদারকির নীতিমালা না থাকায় বেড়েই চলেছে দুর্ঘটনা

এক্সক্লুসিভ: দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এলপিজি সিলিন্ডার দুর্ঘটনা। বিগত ২ বছরের ব্যবধানে গ্যাস-সংক্রান্ত দুর্ঘটনা বেড়েছে ২০০ শতাংশের উপরে। গ্যাস সিলিন্ডার শুধুমাত্র বাসাবাড়িতেই বিস্ফোরিত হচ্ছে তা নয়, বিস্ফোরিত হচ্ছে যানবাহনেও। জ¦ালানি সাশ্রয়ের জন্য বর্তমানে অধিকাংশ ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহনই গ্যাসে চালানো হচ্ছে। সেজন্য যানবাহনগুলোয় গ্যাস সিলিন্ডার স্থাপন করতে হচ্ছে। গাড়িতে থাকা ওসব সিলিন্ডারও বিস্ফোরিত হচ্ছে। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে টাঙ্গাইলে পুলিশের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত হয়। এমন অবস্থায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর গ্যাস সিলিন্ডার ও উপকরণগুলোর তদারকির জন্য কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ না করে নতুন কোম্পানিকে গ্যাস বোতলজাতের অনুমোদন না দিতে পরামর্শ দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত ২০১৫ সালে দেশে গ্যাস-সংক্রান্ত ১৫৬টি দুর্ঘটনা ঘটে। তাতে ৩৭ জন নিহত এবং ৬১৩ জন আহত হয়। পরের বছর দুর্ঘটনার সংখ্যা কিছুটা বেড়ে ১৯৬-তে দাঁড়ায়। ওই বছর গ্যাস-সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় আহত হয় ৭৭৮ জন আর নিহত ৪৯ জন। তবে ওই দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা ২০১৭ সালে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। ওই বছরে ৩৩৭টি দুর্ঘটনায় ৮২ জন নিহত ও ১ হাজার ৩০৯ জন আহত হয়। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে গ্যাস-সংক্রান্ত দুর্ঘটনা বেড়েছে ২০০ শতাংশের উপরে। আর চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ৩০৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৩ মাসে ভয়াবহ মাত্রায় বেড়েছে গ্যাস-সংক্রান্ত দুর্ঘটনা।
সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে ৭টি প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ করছে। আর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে আরো কয়েকটি গ্যাস বোতলজাত কোম্পানি। তবে ওসব প্রতিষ্ঠানকে গ্যাস বোতলজাত করার অনুমোদন দেয়া হলেও গ্যাস সিলিন্ডার ও সংশ্লিষ্ট উপকরণের মান তদারকির কর্তৃপক্ষ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে ত্রুটিপূর্ণ উপকরণেই চলছে গ্যাস সরবরাহ। দেশে গ্যাস বোতলজাত ও বিপণনের জন্য বিধিমালা থাকলেও এর ব্যবহার ও তদারকির জন্য কোনো নীতিমালা নেই। এলপিজি সংশোধিত বিধিমালায় ২০০৪ বটলিং প্লান্ট, মজুদ টার্মিনাল, গ্যাস প্রসেস প্লান্ট, পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি, গ্যাস সিলিন্ডার বহন ও বিপণনের বিষয়গুলো উল্লেখ থাকলেও গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার ও তদারকির কোনো নির্দেশনা নেই।
সূত্র আরো জানায়, ফায়ার সার্ভিস গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের প্রধান কারণ হিসেবে ৪টি বিষয় উল্লেখ করেছে। সেগুলো হলো সেকেন্ডারি রিফিলিং, মান নিয়ন্ত্রণ, যন্ত্রপাতির আয়ুষ্কাল পর্যবেক্ষণ এবং ঝুঁকি নিরসন-সংক্রান্ত কোনো অডিটিং সিস্টেম না থাকা। সমস্যা সমাধানে নতুন ও বিদ্যমান গ্যাস উৎপাদন, আমদানি, বোতলজাত, গুদামজাত ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফায়ার সেফটি প্ল্যান অনুমোদন ও অনাপত্তি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে ফায়ার সার্ভিস। বর্তমানে লাফস গ্যাস লিমিটেড, ওরিয়ন গ্যাস লিমিটেড, বসুন্ধরা, যমুনা, টোটাল গ্যাস, ওমেরা, বিএম এনার্জিসহ আরো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বোতলজাত গ্যাস সরবরাহ করছে। আরো বেশকিছু এলপিজি বোতলজাত কোম্পানিকে লাইসেন্স প্রদান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে নতুন করে অনুমোদন প্রদানের আগে গ্যাস সিলিন্ডার ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ পরীক্ষা করার জন্য নীতিমালা প্রয়োজন জানিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান জানান, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ত্রুটিপূর্ণ পাইপ, সিলিন্ডার ও চাবি ব্যবহারের জন্য হয়ে থাকে। প্রতি বছরই সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা দরকার। কিন্তু এখানে গ্যাস সিলিন্ডার ও গ্যাস লাইন পরীক্ষার জন্য কোনো নীতিমালা নেই। ওই কারণেই মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ওই ধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com