বুধবার  ২৬শে মার্চ, ২০১৯ ইং  |  ১৩ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ১৯শে রজব, ১৪৪০ হিজরী

কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফেলিক্স শিসেকেদিকে জয়ী ঘোষণা, ফল প্রত্যাখ্যান ক্যাথলিক চার্চের

আর্ন্তজাতিক: কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধীদলীয় নেতা ফেলিক্স শিসেকেদিকে জয়ী ঘোষণা করে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের ফল প্রত্যাখ্যা করেছে দেশটির ক্যাথলিক চার্চ।
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে চার্চটির ৪০ হাজারেরও বেশি পর্যবেক্ষক কাজ করেছেন। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে ফেলিক্স নয় মার্টিন ফায়ুলুর বিজয়ী হয়েছেন বলে দাবি এ তাদের।
নির্বাচন কমিশনের ফল নিয়ে এ সন্দেহ-উদ্বেগ স্বাধীনতার ৫৯ বছর পর দেশটিতে প্রথমবার গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে ধারণা বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলা এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।
তার দ্বিতীয় দফার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় দুই বছর আগেই এ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ভোটার নিবন্ধনে সময় লাগবে অজুহাতে কমিশন নির্বাচনটি ২০১৮-র ডিসেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়।
নির্বাচনের পর ফল গণনায় দেরি নিয়েও বিরোধীরা একের পর এক অভিযোগ এনেছিল। পরে বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইউনিয়ন ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড সোশাল প্রোগ্রেস দলের নেতা শিসেকেদিকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
কমিশন জানায়, ৬৪ লাখের মতো ভোট পাওয়া ফায়ুলুর চেয়ে সামান্য বেশি ভোট পেয়ে শিসেকেদি জয়ী হয়েছেন। আর কাবিলা সমর্থিত শাদারি পেয়েছেন মাত্র ৪৪ লাখ ভোট।
ফায়ুলুর সমর্থকরা বলছেন, শাদারিকে জয়ী করতে না পেরেই শিসেকেদির সঙ্গে গোপন আঁতাত হয় কাবিলার। যার ফলেই নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে এ জালিয়াতি ও ‘অভ্যুত্থান’।
ফলাফলের বিরুদ্ধে ফায়ুলু সাংবিধানিক আদালতে মামলা করতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
কঙ্গোর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভার থাকা ক্যাথলিক চার্চও বলছে, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলের সঙ্গে কেন্দ্রভিত্তিক ফলের মিল নেই।
“নির্বাচন কমিশন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের যে ফল দিয়েছে, ভোট কেন্দ্র ও গণনায় আমাদের প্রতিনিধিরা যেসব তথ্য পেয়েছিলেন তার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই,” বিবৃতিতে বলেছে ন্যাশনাল এপিসকোপাল কনফারেন্স অব কঙ্গো অবজার্ভারস।
পর্যবেক্ষকদের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন।
রয়টার্স বলছে, নির্বাচনের আগে সরকারবিরোধী বড় বড় বিক্ষোভের জন্ম দেওয়া ফায়ুলু সহজেই জিতে যাবে বলে মনে করা হচ্ছিল। বিভিন্ন জনমত জরিপেও তার পক্ষেই সমর্থন বেশি দেখা যাচ্ছিল।
শিসেকেদির সমর্থকরা দেশটির বিভিন্ন অংশে নেচেগেয়ে জয় উদযাপন করলেও ক্যাথলিক চার্চের ফল প্রত্যাখ্যানের পর তাদের উৎসাহেও কিছুটা ভাঁটা পড়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এদিকে ফল ঘোষণার পর রাজধানী কিনশাসা থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরের শহর কিকউইতে ফায়ুলু সমর্থক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত।
পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, নির্বাচন কমিশনের ফলাফল নিয়ে যে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে তা দেশটিতে নতুন করে সংঘাত-সহিংসতার পথে নিয়ে যেতে পারে। গত শতকের ৯০-র দশকের পর বিশৃঙ্খলা ও গৃহযুদ্ধের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ও মহামারি দেশটির লাখ লাখ বাসিন্দার প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল।
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সন্দেহ জানিয়েছে ফ্রান্স ও বেলজিয়াম।
“ফলাফল আমাদের প্রত্যাশার বিপরীত হয়েছে,” বলেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জঁ দ্রিয়ান।
কঙ্গোর নির্বাচনী ফল নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাজ্যও। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, তারা ভোট গণনা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তার ব্যাখ্যা চায়।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com