মঙ্গলবার  ২১শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং  |  ৯ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ১৫ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

কুতুবদিয়া সাগরে জাহাজ আসা প্রচুর বাড়লেও মাসুল পায় না বন্দর

এক্সক্লুসিভ: কুতুবদিয়া গভীর সাগরে পণ্যবাহী প্রচুর জাহাজ নোঙর করলেও চট্টগ্রাম বন্দর তা থেকে কোনো মাসুল পায় না। সেখানে ওসব জাহাজ নোঙর করতে বন্দরের কাছ থেকে অনুমতিরও দরকার হয় না। এমনকি সে ব্যাপারে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কোনো তদারকিও নেই। ফলে সেখানে কী ধরনের পণ্য জাহাজ থেকে নামানো হচ্ছে, অবৈধ বা উচ্চ শুল্কের কিংবা চোরাচালান পণ্য জাহাজে ভর্তি বা নামানো হচ্ছে কিনা কেউ জানে না। তবে কুতুবদিয়ায় নোঙর করা বড় জাহাজ থেকে পণ্য ছোট জাহাজে নামানো হলে ওই জাহাজ থেকেই কেবল রিভার ডিউজ বা ভাড়া পায় বন্দর। পোর্ট ডিউজ, বার্থিং ডিউজ, পাইলটিংসহ অন্য কোনো মাসুল পায় না। চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের সব বড় জাহাজই কুতুবদিয়া সাগরে ভেড়ে। কারণ সেখানে পানির গভীরতা সবচেয়ে বেশি থাকায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ এবং ১৫ থেকে ১৭ মিটার ড্রাফট বা গভীরতার জাহাজও ভিড়তে পারে। অথচ বন্দর সীমানার মধ্যে থাকা বহির্নোঙরে ভিড়তে পারে সাড়ে ১২ মিটার গভীরতার জাহাজ। বাংলাদেশে আসা সবচেয়ে বড় জাহাজ হচ্ছে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ; সেগুলো ভেড়ে কুতুবদিয়া গভীর সাগরে। বছরে ওই ধরনের কী পরিমাণ জাহাজ কুতুবদিয়া থেকেই চলে যায় তার কোনো তথ্য বন্দরের কাছে নেই। বর্তমানে ৩টি জাহাজ এলএনজি নিয়ে কুতুবদিয়া গভীর সাগরে অপেক্ষা করছে। তার মধ্যে একটি জাহাজ থেকে এলএনজি পাইপলাইনে করে চট্টগ্রাম এনে গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এলএনজির কোনো জাহাজেরই বিল অব এন্ট্রি জমা পড়েনি। এমন পরিস্থিতিতে কুতুবদিয়া গভীর সাগরে নোঙর করা জাহাজ থেকে পণ্য চোরাচালান হচ্ছে কিনা তাও কেউ জানে না।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমা বলতে শুধু সাড়ে ৭ নটিক্যাল মাইল অর্থাৎ বহির্নোঙরের আলফা, ব্রাভো ও চার্লি অ্যাংকরেজকেই বোঝায়। কুতুবদিয়া গভীর সাগর বন্দরের ওই সীমানার বাইরে। ফলে বন্দরের সেখানে তদারকি বা কাজ করার সুযোগ নেই। তবে বন্দরের সীমানা বাড়ানো হলে সেখানে তদারকি ও আয়ের সুযোগ থাকবে। সম্প্রতি কুতুবদিয়া গভীর সাগরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি নিয়ে একাধিক জাহাজ কুতুবদিয়া গভীর সাগরে রয়েছে। ওই দুটি জাহাজ থেকে এলএনজি নামানো হচ্ছে মাতারবাড়ীতে নির্মিত এলএনজি টার্মিনালেই। ওই জাহাজ গ্যাস নামিয়ে সেখান থেকেই ফিরে যাবে। ফলে ওই জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ভেড়ার কোনো দরকার নেই। যেহেতু বন্দরের বহির্নোঙরে কিংবা বন্দর জেটিতে জাহাজগুলো ভিড়বে না। স্বাভাবিকভাবেই ওসব জাহাজ থেকে কোনো মাসুল পাবে না বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে শিপ হ্যান্ডলিং বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম সামশুজ্জামান রাসেল জানান, আগে একাধিক বন্দরের জন্য একটি জাহাজে পণ্য আনলে চট্টগ্রামের জন্য কুতুবদিয়ায় নামতো, বাকিটা মোংলা বন্দরে গিয়ে নামতো। এখন ট্রানজিট পণ্যবাহী জাহাজ কুতুবদিয়ায় আসছে। এর সঙ্গে ইদানীং কক্সবাজার-চট্টগ্রাম ঘিরে সরকারের বড় উন্নয়ন প্রকল্প নির্মাণের কারণে কুতুবদিয়া সাগরে জাহাজ আসা প্রচুর বেড়েছে। তবে ওই ধরনের জাহাজের সংখ্যা সুনির্দিষ্টভাবে জানা নেই।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কমিশনার ড. এ কে এম নুরুজ্জামান জানান, আগে বন্দরের রামেজ ও এফ ডিভিশন সাগরে ওসব চোরাচালান পণ্য তদারকি করতো। এখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন আদেশে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সাগরে আসা ওসব পণ্য তদারকি ও রাজস্ব আদয়ের জন্য চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়ার জানান, সরকারের নতুন আদেশে ওই অঞ্চলে রাজস্ব আদায় ও তদারকির দায়িত্ব রাজস্ব বিভাগের। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান রাজস্ব বিভাগের কাছে বিল অব এন্ট্রি জমা দেয়নি। আর সুনির্দিষ্ট চোরাচালানের তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে দেখা হবে।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com