সোমবার  ২৮শে মে, ২০১৮ ইং  |  ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ১৩ই রমযান, ১৪৩৯ হিজরী

খুলনার ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান, প্রধান নির্বচন কমিশনারের পদত্যাগ চায় বিএনপি

ডিএ: খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি।আজ বুধবার সকালে রাজধানীর নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ভোটের ফল নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, গতকালের ভোটে নিরস্ত্র ভোটারদের ওপর অবৈধ সরকারের অবৈধ ক্ষমতার প্রদর্শন হয়েছে। আমি দলের পক্ষ থেকে গতকালের খুলনা করেপোরশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যা করছি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছি। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত খুলনা সিটির ভোটে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮৬টির ঘোষিত ফল অনুযায়ী, নৌকা প্রতীক নিয়ে খালেক পেয়েছেন একলাখ ৭৪ হাজার ৮৯১ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের মঞ্জু পেয়েছেন একলাখ ৯ হাজার ২৫১ ভোট। তিন কেন্দ্রের ভোট স্থগিত। ভোট দিতে গিয়ে ধানের শীষের ভোটার ও সমর্থকরা ‘নিগৃহীত’ হয়েছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ভোটের দিন নৌকার প্রার্থীর লোকজনদের ছিল সীমাহীন আধিপত্য ও বেপরোয়া চলাফেরা। গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) লাইন ধরে বিভিন্ন কেন্দ্রে জালভোট প্রদান করে। অনেক কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসাররা আওয়ামী ঝটিকা বাহিনীকে একচেটিয়া ‘ভোট কাস্টিংয়ে’ সহায়তা করে। তারা কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যালট পেপারের বান্ডিলে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে। ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব দেখেও না দেখার ভান করেছিলেন। খুলনায় সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ৬৫ শতাংশের বেশি বলে নির্বাচন কমিশনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। তিনি বলেন, মূলত, সেখানে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৩০ শতাংশেরও কম। রিজভী বলেন, সন্ত্রাসীদের বাধা ও সন্ত্রাসী হামলার মুখে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের অধিকাংশকেই কেন্দ্র থেকে ভোট না দিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা নেই, সামর্থ্য নেই আর যোগ্যতাও নেই। ভোট ডাকাতি, ভোট সন্ত্রাস, জাল ভোট, ভোটকেন্দ্র দখল, অবৈধ অস্ত্রের আস্ফালনের ফলাফল বিএনপির পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা অবিলম্বে সিইসির পদত্যাগ দাবি করছি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বেহায়াপনার শেষ নেই বলেও মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বেহায়াপনার একটা শেষ আছে, কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বেহায়াপনার শেষ নেই। নির্লজ্জের মতো কীভাবে বলে নির্বাচন চমৎকার হয়েছে। আর সারা দেশের মানুষ দেখেছে, কতটা চমৎকার হয়েছে কুসিক নির্বাচন। রিজভী বলেন, ভোট ডাকাতি, ভোট-সন্ত্রাস ছাড়া আওয়ামী লীগের বিজয় নিশানে কখনো হাওয়া লাগে না। এরা সব সময় জোর করে ক্ষমতা দখল করতে পছন্দ করে। তাই মানুষের ভোটাধিকার হরণ করছে প্রতিটি নির্বাচনে। গতকাল (গত মঙ্গলবার) অনেক ভোটারকে ভোটকেন্দ্র থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এই বলে যে, আপনার ভোট তো অনেক আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, গতকাল (গত মঙ্গলবার) খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এক নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির দক্ষ যজ্ঞ জনগণ প্রত্যক্ষ করল। ভোট দিতে গিয়ে ধানের শীষের ভোটার ও সমর্থকরা যেভাবে নিগৃহীত হয়েছেন, তা কোনো সুস্থ নির্বাচন পদ্ধতি হতে পারে না। গতকাল (গত মঙ্গলবার) ভোটের দিন নৌকার প্রার্থীর লোকজনদের ছিল সীমাহীন আধিপত্য ও বেপরোয়া চলাফেরা। গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা লাইন ধরে বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়। অনেক কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসাররা আওয়ামী ঝটিকা বাহিনীকে একচেটিয়া ভোট কাস্টিং-এ সহায়তা করে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে কারাবন্দি করা বর্তমান সরকারের দীর্ঘদিনের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মাস্টারপ্ল্যানের অংশ বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর দীর্ঘদিনের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করছেন শেখ হাসিনা। তাঁকে নিয়ে বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য অশুভ, অমানবিক ও ব্যক্তি মানবাধিকারের চরম অবজ্ঞা। মূলত খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা দিতে অগ্রাহ্যের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়, তিনি সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার। চিকিৎসা প্রদানে সরকারের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অবহেলায় খালেদা জিয়ার ক্ষতি হলে কোনোভাবেই রেহাই পাবেন না। নারায়ণগঞ্জ কারাগারে বন্দি গুরুতর অসুস্থ দলের চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সুচিকিৎসা ও তার মুক্তির দাবি জানান রিজভী। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন ও বেলাল আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com