বৃহস্পতিবার  ২২শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং  |  ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ১৪ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

গণজাগরণের লাকীর বাসা থেকে কোটা আন্দোলনের নেতা সুহেল গ্রেফতার

ডিএ: গণজাগরণের নেতা লাকী আক্তারের ঢাকার বাসায় অভিযান চালিয়ে এক কোটা আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। লাকী বলেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র এ পি এম সুহেলকে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে তার বাসা থেকে ধরে নেওয়া হয়। ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে কৃষক সমিতির নেতা লাকীও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষার্থী ছিলেন। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তা সংগঠনে ভূমিকা রয়েছে সুহেলের। তিনি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক। সম্প্রতি তিনি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হামলার শিকারও হয়েছিলেন। লাকী বলেন, রাত সোয়া ৪টার দিকে শান্তিনগরে তার ভাড়া বাসায় সাদা পোশাকের একদল ব্যক্তি অভিযানে যায়। লাকী প্রথমে দরজা না খুললেও অনেকক্ষণ বাক-বিত-ার একপর্যায়ে বাড়িওয়ালা আসার পর দরজা খুলে দেন। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে আমার ডিপার্টমেন্টের ছোটভাই এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক সুহেল আমার বাসায় ছিল। তারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে। যাওয়ার আগে বাসার কম্পিউটারের হিস্ট্রি চেক করেন। এ ছাড়া সুহেল যে রুমে ছিল সেখানে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালান। সুহেলের ব্যবহৃত একটি ফোন ছাড়া আর কিছুই তারা পাননি। প্রায় দেড় ঘণ্টা বাসায় অবস্থানকালে ওই ব্যক্তিরা সুহেলকে আলাদা কক্ষে নিয়ে ‘হাতকড়া পরিয়ে’ জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলেও লাকী জানান। সুহেলকে নিয়ে যাওয়ার আগে আমি জানতে চাইলাম ওর বিরুদ্ধে অভিযোগ কী? তারা বললেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। যাওয়ার সময় তারা বলে গেছেন, আপনারা ডিবি অফিসে যোগাযোগ করেন, বলেন লাকী। কোটা আন্দোলনকারী কয়েকজন নেতাকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, তাকে (সুহেল) গ্রেফতার করা হয়েছে। কী অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি। লাকী বলেছেন, আমি এ ঘটনায় মোটেও ভীত নই। কিন্তু যখন-তখন সাদা পোশাকে নাগরিকদের ঘরে হানা দেওয়ার এই সংস্কৃতি একজন নাগরিক হিসেবে আমাকে শংকিত করে। শিক্ষার্থী গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নুর মোহাম্মদ বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কেন তাকে নিয়ে গেছে, তা আমি জানি না। তবে কেউ যদি অপরাধ করে, তবে সে শাস্তি পাবে, আর না করলে মুক্তি পাবে- এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com