মঙ্গলবার  ১৬ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং  |  ১লা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ৭ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

ডিজেল সংকটে হুমকির মুখে দুই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন

এক্সক্লুসিভ: দেশে সার্বিকভাবে জ্বালানি তেলের জোগানের কোনো সংকট নেই। কিন্তু শুধু পরিবহন ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সিরাজগঞ্জের দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সময়মতো তেল পৌঁছাচ্ছে না। ফলে ওই দুটি কেন্দ্র সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। এমনকি বিভিন্ন সময় গোটা উৎপাদনই বন্ধ থাকছে। অথচ গ্যাস সংকটের কারণে এমনিতেই গ্যাসচালিত কেন্দ্রগুলো পুরোদমে উৎপাদন করতে পারছে না। তার মধ্যে তেলচালিত কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ অবস্থায় রমজানে বর্ধিত বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো কঠিন হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটে ডিজেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সেগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ইউনিট-১ কেন্দ্রটি গতবছরের ১২ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৭ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ছিল। তারপর ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ডিজেলের মাধ্যমে মাঝে মাঝে তা চালু ছিল। তারপর আবার ডিজেলের স্বল্পতা থাকায় কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ রেখে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। আর দ্বিতীয় ইউনিট গতবছরের ফেব্রুয়ারিতে চালু হয়। প্রথম ইউনিটের উৎপাদন প্রায় বন্ধ থাকলেও দ্বিতীয় ইউনিটটি ঢিমেতালে চলছে। তবে যখন প্রথম ইউনিটটি চালু করা হয়, তখন দ্বিতীয় ইউনিটটি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অর্থাৎ একইসঙ্গে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে দুটি কেন্দ্র চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
সূত্র জানায়, দুইটি ইউনিট পুরোদমে চালু রাখার জন্য প্রতিদিন ২২ লাখ লিটার এবং একটি ইউনিটের জন্য ১১ লাখ লিটার ডিজেল দরকার হয়। কিন্তু তার সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। যদি রেলের শুধু একটি গাড়ির (৩০টি ওয়াগন সম্পন্ন) মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ করা হয় তাহলে প্রতিদিন গড়ে পৌনে ৪ লাখ লিটার ডিজেল পাওয়া যায়। আর দুটি গাড়ি হলে ৬ লাখ লিটার পাওয়া যায়। গত দুই মাসে বাঘাবাড়ী এবং দৌলতপুর ডিপো থেকে প্রতিদিন গড়ে ৯ দশমিক ৩ লাখ লিটার ডিজেল সরবরাহ পাওয়া যায়। কিন্তু ওই পরিমাণ তেল দিয়ে একটি কেন্দ্রও পুরোদমে চালু রাখা সম্ভব নয়।
সূত্র আরো জানায়, দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য রেলের গাড়ির বরাদ্দ আরো বাড়াতে হবে। ৩টি গাড়ি বরাদ্দ বাড়ানো হলে দৌলতপুর ডিপো থেকে প্রতিদিন গড়ে ১১ লাখ লিটার এবং বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬০টি ট্যাংক লরীর মাধ্যমে দৈনিক ৮ লাখ লিটার ডিজেল পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ এমন পদক্ষেপ নেয়া হলেই সব মিলিয়ে প্রতিদিন মোট ১৯ লাখ ডলারের ডিজেল পাওয়া যাবে। ওই পরিমাণ তেল দিয়ে দুটি ইউনিটের অন্তত ৭৫ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহৃত হবে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বিপিসির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, পার্বতীপুর ডিপোতে ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাঝে কিছুদিন দৌলতপুর ডিপোতে তেল সরবরাহ স্থগিত ছিল। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তেলের সরবরাহও বাড়ানো হচ্ছে। ধীরে ধীরে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনমতো তেল পাবে। রেলসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com