শনিবার  ১৭ই আগস্ট, ২০১৮ ইং  |  ৩রা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ৬ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী

ঢাকায় ছুটির দিনেও সড়কে শিক্ষার্থীরা

ডিএ: দাবি মেনে নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ঘরে ফেরার আহ্বান জানানোর পরও টানা ষষ্ঠ দিনের মতো রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় অবস্থান নেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আগের পাঁচ দিনের মতো ব্যাপক আকারে না হলেও মিরপুর, শাহবাগ, আসাদ গেইট, রায়েরবাগ এলাকায় শুক্রবার সড়কে শিক্ষার্থীদের দেখা গেছে। বেলা পৌনে ১২টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে অবস্থান নেয়। তাদের একজন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র শিক্ষার্থী তাহরিম সাম্য বলেন, মিডিয়ায় ফোকাসড হওয়ার জন্য নয়, আমারা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আন্দোলন করছি। সড়ক নিরাপদ করতে শিক্ষার্থীরা যে নয়টি দাবি তুলেছেন, তা পূরণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সংবাদ সম্মেলন করে জানান। সমালোচনার মুখে থাকা নৌমন্ত্রী ও পরিবহণ শ্রমিক নেতা শাজাহান খানের বার বার ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এরপরও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে অযৌক্তিক। ‘বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরেও নৌমন্ত্রী শাজাহান খান কীভাবে হাসতে পারেন- এই প্রশ্ন রেখে সাম্য বলেন, আমরা শাজাহান খানের পদত্যাগ চাই। মণিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, বিউইবিটি, বিসিআইসি কলেজের শিক্ষার্থী মিরপুরে জড়ো হন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগ মোড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়ো হলেও তাদেরকে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে একজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দাবি পূরণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে কোনো ঘোষণা না পাওয়ায় তারা বের হয়েছেন। তারা দাবি মেনে নেওয়ার লিখিত ঘোষণা চান। সকাল থেকে শাহবাগ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. আজিমুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে যেন কোনো কিছু করতে না পারে সেদিকে আমরা নজর রেখেছি। শিক্ষার্থীদেরও বিষয়টি বোঝানো হচ্ছে। সকালে কিছু শিক্ষার্থী মিরপুর-১ নম্বরে জড়ো হয়ে মানববন্ধন করেন। সকাল ১১টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর, আড়ং ও আসাদগেইট এলাকায় অবস্থান নেয় কয়েকশ শিক্ষার্থী। তাদের কেউ মানববন্ধন করছিলেন, আবার অনেকে সড়কে নেমে গাড়িতে শৃঙ্খলার আনার কাজে কাজে যুক্ত হন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। আন্দোলনকারীদের একজন তৌহিদ আসাদ বলেন, গতকাল শুক্রবার সপ্তাহিক ছুটির দিন ও বিসিএস পরীক্ষা থাকায় বড় ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়া হয়নি। তবে গণস্বাক্ষর অভিযানের মতো কর্মসূচি করার চিন্তা করা হচ্ছে। গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই কলেজছাত্রের মৃত্যুর পর থেকে সড়কে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: নিরাপদ সড়কের দাবিতে সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা এসে জড়ো হতে থাকে ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। এ সময় তারা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সড়ক পরিবহন আইনের সংশোধন ও রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর নিহতের ঘটনায় দোষীদের ফাঁসি দাবি করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে গজারিয়া থানার ওসি মো. হারুন অর রশীদ ও স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের আশ্বাস ও জুমার দিন হওয়ায় আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে বাড়ি ফিরে যায় শিক্ষার্থীরা।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com