বৃহস্পতিবার  ২২শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং  |  ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ১৪ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

ত্বক সমস্যা বয়স্কদের

স্বাস্থ্য: ত্বক মানবদেহকে পারিপাশ্বির্ক প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা করে থাকে, যেমন শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা, ত্বকে উপস্থিত সংবেদনশীল স্নায়ুর মাধ্যমে ব্যথা স্পশর্, চাপ, গরম ও ঠা-া অনুভূত করা ইত্যাদি। বয়োবৃদ্ধির লক্ষণ সবর্প্রথম ত্বকে পরিলক্ষিত হয়। সাধারণত পঞ্চাশোধ্বর্ বয়সে পরিবতর্ন লক্ষণীয়। নারী-পুরুষ নিেিবর্শষে এ পরিবতর্ন হয় তবে ঋতু বন্ধ হওয়ায় নারীদের বেশি অনুভূত হতে পারে। বয়োবৃদ্ধির কারণ ত্বকের বিভিন্ন স্তর অপেক্ষাকৃত হালকা হতে পারে এবং ওই স্তরসমূহে বিভিন্ন কোষ সংখ্যা কমে যায়। কানেকটিভ টিস্যু বা যোজন কলা কমে যাওয়ার কারণে ত্বক স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে ফেলে এবং বিভিন্ন স্থানে ভাগ পরিলক্ষিত হয় যেমনÑ চোখ ও গলার নিচে, মুখম-ল ইত্যাদি স্থানে পানি ধারণ ও তেল নিঃসরণ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। রক্তনালি স্থূল ও ভঙ্গও হয় একইসঙ্গে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। ত্বকের সঙ্গে সঙ্গে নখের বৃদ্ধি ও আকার পরিবতর্ন হয়। চুল কমে যেতে থাকে এবং রক্ত ধূসর হতে থাকে।
বয়োবৃদ্ধির কারণে ত্বকের সমস্যাগুলো নিম্নœরূপে ভাগ করা যেতে পারে। ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়ার কারণ, ত্বকের পানি ধারণ ও তৈল নিঃসরণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় শুষ্ক ও রুক্ষ হয় এবং চুলকানি অনুভূত হয়। একে যেনাইল জামার্টাইটিস ও জেরোসিস বলা হয়ে থাকে।
যোজন কলার কমার জন্য ত্বকের শক্তি ও স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় যা ইলাসটোসিস নামে পরিচিত। স্বাভাবিক তেল নিঃসরণ কমে যাওয়ার কারণে উজ্জ্বলতা কমে যায়। মমর্গ্রন্থি বা সোয়েট গ্রান্ডের ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। মেলানিনের পরিবতের্নর কারণ লেনটিগো বা লিভার স্পট, কেয়োটোসিস ইত্যাদি দেখা দেয়। অনুভূতি কমার ফলে তাপ, ঠা-া ও স্পশর্জনিত আঘাতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
রক্তনালি স্থূল ও ভঙ্গুর এবং রক্তপ্রবাহ হ্রাসের কারণে ত্বকে রক্ত জমাট হতে পারে, আলসার যা ক্ষত দেখা দেয়। চেরি অ্যানজিওমা, পাপুরা, ব্রুইজ ও গ্যারনি হতে পারে। ডায়াবেটিক আক্রান্তদের ক্ষেত্রে গ্যালরিনের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমার কারণÑ বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাংগাস ও পরজীবী সংক্রামণ বৃদ্ধি পায়। যেমনÑ পায়োজামার্, হারপিজ দাদ, খোসপাঁচড়া ইত্যাদি।
টিউমারের সম্ভাবনা বৃদ্ধির কারণ বিভিন্ন ধরনের টিউমার যেমন লিটকোপ্লাকিয়া, ইথেলিওমা, মেলোনোমা ও সারকোমা দেখা দিতে পারে। এদের মধ্যে কোনো কোনোটি ক্যান্সারে রূপান্তরিত হয়।
যেমন ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমাÑ যা জীবনহানির কারণ হতে পারে। এ ছাড়া জামার্টাইটিস, একজিমা, অ্যালাজির্জনিত সমস্যা যেমন আেিটর্করিয়া বা ওষুধের প্রতিক্রিয়া বেড়ে যায়। শরীরের অন্যান্য লক্ষণ হিসেবেও ত্বকের পরিবতর্ন হতে পারে।
চিকিৎসা : বয়সজনিত ত্বকের স্বাভাবিক পরিবতর্ন কখনোই রোধ করা সম্ভব না তবে জীবন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে গতি কমানো যায়। বয়োবৃদ্ধিজনিত ত্বকের রোগ নিণের্য়র পর সঠিক চিকিৎসা করলে আরোগ্য লাভ করা যায়। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরম ও ঠা-া এড়িয়ে চলুন, দীঘর্ক্ষণ রোদ পরিহার করুন। গোসলের সময় অপেক্ষাকৃত কম ক্ষারীয় সাবান ব্যবহার করুন এবং গোসলের পর ময়েশ্চারাইজার যেমন পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করুন। আঁচড় কাঁটা থেকে নিবৃত থাকুন। সুষম খাদ্য বিশেষ করে ফলমূল, শাক-সবজি, তৈলাক্ত মাছ ও পানীয় গ্রহণ করার অভ্যাস করুন। ত্বকে কোনো ধরনের পরিবতর্ন লক্ষ করা মাত্র চিকিৎসকের পরামশর্ নিন। যথাসময়ে চিকিৎসা গ্রহণ না করলে গ্যাংরিন, ত্বকের ক্যান্সার হতে পারে। এজন্য সময়মতো চিকিৎসকের পরমাশর্ নেয়া প্রয়োজন।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com