বুধবার  ২৬শে মার্চ, ২০১৯ ইং  |  ১৩ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ১৯শে রজব, ১৪৪০ হিজরী

নথিতে থাকলেও বন্দর থেকে কয়েকশ কনটেইনার গায়েব

এক্সক্লুসিভ: চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গায়েব হয়ে গেছে শত শত পণ্যভর্তি কনটেইনার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নানা পণ্য নিয়ে আসা ওসব কনটেইনারের রেকর্ড কাস্টমস বিভাগের কাছে থাকলেও বন্দরে এর কোনোটিরই হদিস মিলছে না। দীর্ঘকাল অতিবাহিত হলেও ওসব কনটেইনার খালাসের জন্য কোনো আগামপত্র জমা পড়েনি। ওসব চালান নিলামে ওঠারও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বন্দরের ভেতরে পণ্যবাহী কনটেইনারগুলো খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেয়। অনুসন্ধান চালিয়ে ওসব কনটেইনারের প্রকৃত অবস্থান বা ওই সংক্রান্ত কোনো তথ্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবগত করে কাস্টমস। ওই চিঠি দেয়ার পর প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সমাধান দিতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। কাস্টমস এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গায়েব হয়ে গেছে আমদানি পণ্যভর্তি ২৯৪ কনটেইনার। চট্টগ্রাম কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে ২৯৪টি আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনারের রেকর্ড রয়েছে। নিয়মানুযায়ী বন্দর ব্যবহার করে আমদানি-রফতানি হওয়া সব ধরনের পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর পণ্যের পরীক্ষণসহ শুল্কায়নের কাজটি সমাধা করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯-এর ধারা ৭৯(২) অনুযায়ী, দেশে পণ্য পৌঁছার পর ইমপোর্ট জেনারেল ম্যানিফেস্টো (আইজিএম) দাখিলের ৩০ দিনের মধ্যে বন্দর থেকে পণ্য ছাড়করণের উদ্দেশ্যে আমদানিকারকের পক্ষ থেকে আগামপত্র দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ওসব কনটেইনারভর্তি পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর সময় পেরিয়েছে প্রায় ২ বছর। তার মধ্যে এসব কনটেইনার নিলামেও ওঠেনি।
সূত্র জানায়, কাগজে কলমে থাকলেও বন্দরের ভেতরে পণ্যভর্তি কনটেইনার খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিল। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই শেষে কমিটির পক্ষ থেকে দেয়া প্রতিবেদনে মোট ২৯৪টি কনটেইনার না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তদন্তে দেখা যায় ওসব কনটেইনার বন্দর থেকে বের হয়নি। এমনকি নিলামেও যায়নি। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট পণ্যের চালানগুলোরও কোনো ধরনের শুল্কায়নও হয়নি। বন্দর কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ও গেট দিয়ে পণ্য সরবরাহ যাচাইয়ের কাজও হয়নি। অর্থাৎ বন্দরে সংশ্লিষ্ট চালানগুলোর দালিলিক কোনো কাজ হয়নি। তারপরও দীর্ঘ সময়ের অনুসন্ধানে ওসব কনটেইনারের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
এদিকে বন্দর পণ্যভর্তি কনটেইনার না পাওয়ার বিষয়ে গত ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে কাস্টমসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২৯৪ কনটেইনারের বিল অব লেডিংয়ের বিপরীতে কোনো আগামপত্র দাখিল করা হয়নি। তাছাড়া নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও পণ্য চালানগুলো অবস্থান সম্পর্কে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অবহিত নয়। চিঠিতে প্রয়োজনীয় দলিলাদিসহ ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ২৯৪টি কনটেইনারের অবস্থা, অবস্থান ও এগুলোর খালাস প্রক্রিয়া সম্পর্কে বন্দরের পক্ষ থেকে কী ধরনের কার্যক্রম নেয়া হয়েছে, তা জানাতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তারপর এক মাস সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে ওি বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এদিকে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ব্যবস্থাপক সারোয়ারুল ইসলাম জানান, অতীতেও এমন ধরনের পণ্যভর্তি কনটেইনার খুঁজে না পাওয়ার বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিল চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তখন শনাক্ত করেও দেয়া হয়েছিল। মূলত কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বন্দর গেট থেকে এন্ট্রি না করায় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com