মঙ্গলবার  ২১শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং  |  ৯ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ১৫ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

পুজিবাজারে সুলক্ষণ স্থিতিশীলতা রক্ষার ব্যবস্থা জরুরি

সম্পাদকীয়: নতুন বছরে বড় উত্থান দেখা দিয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বড় ধরনের গোলযোগ না হওয়ার একটা প্রভাব রয়েছে। আরো কিছু কারণে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা আস্থার লক্ষণ দেখতে পাচ্ছে। ১ থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চার কার্যদিবসে মূল্যসূচক বেড়েছে ৩০১ পয়েন্ট। রবিবার ৯৬ পয়েন্ট, ৩ জানুয়ারি ৯৪ পয়েন্ট, ২ জানুয়ারি ৩১ পয়েন্ট ও ১ জানুয়ারি ৮০ পয়েন্ট সূচক বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন সরকার গুরুত্ব দেবেÑএ আশায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বেড়েছে। এতদিন অনেক বিনিয়োগকারীই নিষ্ক্রিয় ছিল, এখন তারা সক্রিয় হচ্ছে। উপরন্তু পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; তাঁদের কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই আশা করা হচ্ছে, পুঁজিবাজারে তাঁদের ও সরকারের বিশেষ নজর থাকবে। এ আশাতেই শেয়ার কেনার চাপ বেড়েছে। ফলে বাড়ছে মূল্যসূচক ও লেনদেন। রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন ছিল আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
টানা ১১ দিন ধরে বাড়ছে পুঁজিবাজার। সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কমই ছিল। তবে নির্বাচনের পর উল্লম্ফন ঘটছে। সূচক তো বাড়ছেই, লেনদেনও হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বাজার আরো এগোবেÑএমন আশাই করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। রবিবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। সূচক বেড়েছে ৯৬ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন ছিল ৯২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা; সূচক বেড়েছিল ৯৪ পয়েন্ট। রবিবার লেনদেনের ৩৪৬টি কম্পানির মধ্যে দাম বাড়ে ২৬৫টির, দাম কমে ৬২টির এবং দাম অপরিবর্তিত ছিল ১৯টির। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন কমলেও মূল্যসূচক বেড়েছে। রবিবার সেখানে লেনদেন হয় ৫০ কোটি এক লাখ টাকা। আর সূচক বাড়ে ১৬৩ পয়েন্ট। লেনদেনের ২৭৩টি কম্পানির মধ্যে দাম বাড়ে ২০২টির, কমে ৫৩টির আর দাম অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা।
পুঁজিবাজারের এই ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের জন্য আশাব্যঞ্জক। কিন্তু শঙ্কার কারণও রয়েছে। আমাদের বিনিয়োগকারীদের স্বভাবে যৌক্তিকতার অভাব রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, দুর্বল, লোকসানী ও লভ্যাংশ দিতে অক্ষম বা অপারগ কম্পানির দিকে ক্রেতাদের প্রবল ঝোঁক রয়েছে। ফন্দিবাজ বিনিয়োগকারী, যারা বেশ প্রভাবশালী, তারাও তৎপর আছে। ধস নামানোর কারিগরদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখনো নেওয়া হয়নি। ফলে এ ঊর্ধ্বগতির শেয়ার-বেলুন যে ফুটো হয়ে আবার বিপত্তি তৈরি করবে নাÑএ কথা হলফ করে বলা যায় না। আশা করি, সরকার স্থিতিরক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেবে এবং ফটকাবাজদের বাজারে নাক গলানো থেকে বিরত রাখবে।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com