বৃহস্পতিবার  ২২শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং  |  ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ১৪ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

ফরিদপুর-১ আসনে সাংসদ আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে একাট্টা তৃণমূল জনপ্রতিনিধিরাও

ডিএ: এতদিন মুখ বুজে ছিলেন ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসনের তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা। এখন তারা সরব হয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে। নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হওয়ার পরও সাংসদের কাছ থেকে যথাযথ মূল্যায়ন পাননি তারা। পেয়েছেন দুর্ব্যবহার, অবজ্ঞা ও অবহেলা। তারা বলছেন, আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনটি ধরে রাখতে হলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পদে পরিবর্তন আনার বিকল্প নেই। কারণ বর্তমান সাংসদকে আবারও প্রার্থী হলে আসনটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। খোদ তৃণমূল আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাই সাংসদের ওপর চরমভাবে অসন্তুষ্ট। ভোটারদের মধ্যেও তার অবস্থান তথৈবচ। জনবিচ্ছিন্ন আবদুর রহমানকে তারা আগামীতে আর নৌকার প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান না। তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতেও দলীয় সাংসদ আবদুর রহমান তাদের ওপর নানাভাবে নিষ্পেষণ ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মতো তাদের মিথ্যা মামলায় আসামি করে হয়রানি করেছেন। সাংসদের মতের বিপক্ষে যারাই গিয়েছেন, তাদেরই এ ভাগ্যবরণ করতে হয়েছে। বিপরীতে বিএনপি-জামায়াতের লোকজনই ঘনিষ্ঠ হয়েছেন সাংসদের। আসনটি থেকে আওয়ামী লীগের চার মনোনয়ন প্রত্যাশী নৌকার পক্ষে এক হওয়ায় আওয়ামী লীগের ত্যাগ ও প্রকৃত নেতাকর্মীরা ভরসাস্থল খুঁজে পেয়েছে। আরও একাট্টা হয়েছে সাংসদ আবদুর রহমানের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে। জোরালো হয়েছে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি। তৃণমূলে নৌকা প্রতীক নিয়ে জনপ্রতিনিধিরাও দীর্ঘদিন ধরে সাংসদ আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করে আসছেন। তারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এসব নিয়ে প্রকাশ্যে কথাও বলেছেন। তিন উপজেলাতেই একই অবস্থা। আলফাডাঙ্গা উপজেলার চেয়ারম্যান এম এম জালাল উদ্দিন ও বোয়ালমারী উপজেলার চেয়ারম্যান এম এম মোশাররফ হোসেন আগে থেকেই সাংসদের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ছিলেন। মধুখালী উপজেলার চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান মোল্যা বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ এসেছেন। তিনি বর্তমান সাংসদের বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান না নিলেও নীরব থাকেন। ফরিদপুর জেলা পরিষদের তিন সদস্যও সাংসদের বিরুদ্ধে সব সময়ই নানা ধরনের অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য ও সরকারি বরাদ্দ লুটের অভিযোগ করে আসছেন। জেলা পরিষদ সদস্য আবু জাফর সিদ্দিকী, শেখ শহীদুল ইসলাম ও মির্জা আহসানুজ্জামান আজাউলের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, নৌকা প্রতীককে আবারও বিজয়ী করতে সাংসদ আবদুর রহমানে বাদ দিয়ে বিকল্প প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে হবে। এ ছাড়া তিন পৌরসভার মধ্যে দুই পৌরসভার মেয়ররাও বর্তমান সাংসদের বিরুদ্ধে সরব। বোয়ালমারী পৌরসভার মেয়র মোজাফফর হোসেন মিয়া বাবলু এবং মধুখালী পৌরসভার মেয়র খন্দকার মোরশেদ রহমানের অবস্থানও সাংসদের বিপক্ষে। তারা অভিযোগ করেন, সাংসদের কাছে তার হাতেগোনা ঘনিষ্ঠরাই সবকিছু। বিএনপি-জামায়াতের লোকজন নিয়ে ওঠাবসা করেন। আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতাদের কোনো মূল্যায়ন তার কাছ নেই। আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালীর ২৭টি ইউনিয়নের দু-একজন চেয়ারম্যান ও সদস্য ছাড়া বাকিরা সবাই সাংসদ আবদুর রহমানের কাজেকর্মে অসন্তুষ্ট। এনিয়ে সুযোগ পেলেই তারা বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন। তাদের অভিযোগ, টিআর-কাবিখা বরাদ্দ পেতে সাংসদ ও ঘনিষ্ঠদের অগ্রিম কমিশন দিতে হয়। কমিশন না দিয়ে বরাদ্দ মেলে না। সাংসদ ও ঘনিষ্ঠরা তিন থানাতেই যেভাবে টিআর-কাবিখা ও বিশেষ বরাদ্দ লুট করেছে তাতে সাধারণ মানুষের কাছে তাদের মুখ দেখানোর অবস্থা নেই। গত শনিবার বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় চমক সৃষ্টি করেছেন ফরিদপুর-১ আসনের চার মনোনয়ন প্রত্যাশী। এই চমকের পরে নড়েচড়ে বসেছে তিন উপজেলার তৃণমূল আওয়ামী লীগ, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। তৃণমূল আওয়ামী লীগের বিশেষ এই সভায় একই মঞ্চে বসেছিলেন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আরিফুর রহমান দোলন, বোয়ালমারী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী সিরাজুল ইসলাম এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার। তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, সাংসদ আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা-হামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। বিএনপি-জামায়াত আমলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এতটা হেনস্থা হতে হয়নি, যতটা হতে হয়েছে দলীয় সাংসদ আবদুর রহমানের সময়। তাই ভয়ে নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এতদিন চুপ করে ছিল। এখন নৌকাকে বিজয়ী করতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ঐক্যের পর তারা আস্থা খুঁজে পেয়েছেন।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com