মঙ্গলবার  ১৮ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং  |  ৪ঠা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ১১ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

বাংলাদেশ আমিরাতের বিপক্ষে উড়ে গেল

খেলাধুলা: বোলিং নির্বিষ। ব্যাটিংয়ে মিডল অর্ডারে ভয়াবহ ধস। দুটির সমন্বয়ে দলের বড় হার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে পাত্তাই পেল না বাংলাদেশ।
ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে বাংলাদেশ শুরু করেছে বড় হার দিয়ে। ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে করাচিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ৯৭ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশকে।
টুর্নামেন্টে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মূলত অনূর্ধ্ব-২৩ দল খেলছে, বয়সী ক্রিকেটার থাকছেন চারজন। সহযোগী দেশগুলোর খেলছে জাতীয় দলই। তবে বাংলাদেশ দলও যথেষ্ট শক্তিশালী কাগজে-কলমে। আমিরাতের জাতীয় দলের কাছে এভাবে উড়ে যাওয়া যথেষ্টই বিব্রতকর।
বৃহস্পতিবার সাউথএন্ড ক্লাব ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আরব আমিরাত তুলেছিল ২৬৭ রান। বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে ১৭০ রানে।
টস জয়ী আমিরাতকে দারুণ শুরু এনে দেন আশফাক আহমেদ ও রোহান মোস্তফা। ১০২ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন দুজন। ৭০ বলে ৪০ রান করা অধিনায়ক রোহানকে থামিয়ে জুটি ভাঙেন মোসাদ্দেক হোসেন।
আরেক পাশে আশফাক রান তুলছিলেন দ্রুতগতিতে। দ্বিতীয় উইকেটে গুলাম শাব্বেরকে নিয়ে গড়েন ৫৮ রানের জুটি।
সেঞ্চুরির দুয়ারে থাকা আশফাককে শেষ পর্যন্ত ফেরান কদিন আগেই টেস্ট ক্রিকেটের স্বাদ পাওয়া সৈয়দ খালেদ আহমেদ। ১৬ চার ও ১ ছক্কায় আশফাক করেন ৯৩ বলে ৯৮।
আমিরাতের তিনশ ছাড়ানোর ভিত্তি তখন প্রস্তুত। কিন্তু শেষ দিকে বাংলাদেশের বোলাররা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোয় তারা পায়নি প্রত্যাশিত স্কোর। তিনে নামা শাব্বের আউট হন তিন ছক্কায় ৫২ রান করে। মিডল অর্ডারে শাইমান আনোয়ার করেছেন ৩৪ বলে ৩৪।
ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সে এগোতে থাকা শরিফুল ইসলাম এখানেও দলের সফলতম বোলার। ১৭ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার ৪ উইকেট নিয়েছেন ৫৫ রানে। খালেদ ৩ উইকেট নিলেও ১০ ওভারে রান গুনেছেন ৬৫। বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলাম ১ উইকেট নিয়েছেন ৯ ওভারে ২৫ রান দিয়ে।
রান তাড়ায় বাংলাদেশ সেভাবে সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি কখনোই। ওপেনার জাকির হাসান ও তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্ক।
ওপেনার মিজানুর রহমান এক প্রান্ত আগলে দলকে টানছিলেন। চারে নেমে ইয়াসির আলি চৌধুরী চেষ্টা করছিলেন সঙ্গ দিতে। কিন্তু ৩৩ রানে এই জুটি ভাঙার পরই নাটকীয় ধস। ৪৩ রানে ফিরলেন মিজানুর, ২০ রানে ইয়াসির। বড় ভরসা মোসাদ্দেক ও অধিনায়ক নুরুল হাসান পেলেন না রানের দেখা। ১ রানের মধ্যে নেই ৪ উইকেট। ২ উইকেটে ৭৯ থেকে চোখের পলকে বাংলাদেশ ৬ উইকেট ৮০!
সাতে নেমে আফিফ হোসেন আউট হয়েছেন ১৭ বলে ১৮ করে। লোয়ার অর্ডারদের সৌজন্যে পরে পরাজয়ের ব্যবধান কমেছে কিছু। নয়ে নেমে শফিউল ইসলাম করেছেন ৩৫ বলে ৩২, দশে নেমে শরিফুল ৩ ছক্কায় ২৫ বলে ৩১। তার পরও ইনিংস যখন শেষ, বাকি তখনও ৭৯ বল।
আমিরাতের দুই স্পিনার ধসিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। লেগ স্পিনার ইমরান হায়দার ৪ উইকেট নিয়েছেন ৩৫ রানে, বাঁহাতি স্পিনার আহমেদ রাজা ৫০ রানে ৪টি।
বাংলাদেশের পরের ম্যাচ শুক্রবার, হংকংয়ের বিপক্ষে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সংযুক্ত আরব আমিরাত: ৪৯.৪ ওভারে ২৬৭ (আশফাক ৯৮, শাব্বের ৫২, রোহান ৪০, শাইমান ৩৪; শফিউল ১/৪৩, খালেদ ৩/৬৫, আফিফ ০/২৬, তানভির ১/২৫, শরিফুল ৪/৫৫, মোসাদ্দেক ১/৫৩)।
বাংলাদেশ: ৩৬.৫ ওভারে ১৭০ (মিজানুর ৪৩, জাকির ৩, শান্ত ৮, ইয়াসির ২০, মোসাদ্দেক ০, নুরুল ০, আফিফ ১৮, তানভির ৩, শফিউল ৩২, শরিফুল ৩১*, খালেদ ৬; হায়দার ৪/৩৫, রাজা ৪/৫০, কাদির ১/১৮, নাভিদ ১/২৯)।
ফল: সংযুক্ত আরব আমিরাত ৯৭ রানে জয়ী

 

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com