মঙ্গলবার  ১৮ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং  |  ৪ঠা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ১১ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

বিএনপির সাথে কখোনই নয়: বি. চৌধুরী

ডিএ: সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, আপনাদের দেখে খুব ভালো লাগছে। আপনাদের দেখে ঐক্যের আভাস পাচ্ছি। দেশপ্রেম দেখতে পাচ্ছি, তাতে জাঁতি উদ্ধুদ্ধ হবে। খুব আনন্দিত আমি। সবসময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা করেছি। সবসময় বলেছি, বাংলাদেশের স্বাপ্নিক পুরুষ যিনি, স্বপ্ন দেখেছেন যেই মানুষটি সবার আগে, তার নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যেই শ্রদ্ধা তার প্রাপ্য ছিল, তা সবসময় তাকে দিয়েছি। গত এক মাসের মধ্যে দুইবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কথা হয়েছে। দীর্ঘ বক্তব্য হয়েছে তিনি শুনেছেন। আমি তাকে স্মরণ করিয়ে দিলাম, উনিও স্মরণ করিয়ে দিলেন। যুক্তফ্রন্টের প্রথম মন্ত্রী সভায় আমার বাবা কফিল উদ্দিন চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর বাবা শেখ মুজিবুর রহমান একসঙ্গে মন্ত্রী ছিলেন। তাকে আমি আরেকটু স্মরণ করিয়ে দিলাম, বঙ্গবন্ধ্রু যখন অনেক কম বয়স, বঙ্গবন্ধুকে আমার বাবা তুমি বলে সম্বধোন করতেন। তখন তিনি (প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা) মাথা নাড়লেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাথে যার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, সুন্দর মানচিত্রকে যারা শ্রদ্ধা করতে জানেন না, মুক্তিযুদ্ধকে যারা স্বীকৃত দেয় না, ৩০ লাখ শহীদের রক্তে ভেজা এই মাটিকে যারা চুমু দিতে দ্বিধা বোধ করে, তাদের সাথে কিছুতেই রাজনীতি করবো না। আমরা বলেছি-বিএনপির সাথে নো এন্ড নেভার, স্বাধীনতার বিরোধীদের সাথে ঐক্য করবো না। বৃহস্পতিবার বিকালে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বীরতারা এলাকার নিজ বাড়িতে চারদিনব্যাপী এক সভার মঞ্চে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে আরো বললেন, অনেকগুলো ডকুমেন্ট তিনি সংগ্রহ করেছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশের পুরো ইতিহাস হবে। যেগুলো একটি একটি করে এডিট করা হচ্ছে। পুরো বই হবে ১৭টি। তার মধ্যে সমস্ত আন্দোলন ইতিহাস এবং জাতীয় নেতৃত্বে যারা ছিলেন, স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করেছেন। এবং আমার বাবা ঐ সময়েও অসুস্থ ছিলেন, তারপর তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন, আমিও নিয়েছিলাম। যুক্তফ্রন্টের কিছু ভালো বিষয় আছে যা প্রধানমন্ত্রী সামনে উপস্থাপন করার। বিকল্প ধারা কিছু বিষয় আছে যা আপনারা নিশ্চয় পছন্দ করবেন। যার একটি ছিলো, শ্রদ্ধার রাজনীতি আনবো। আর কত ঘৃণার রাজনীতি। অনেক তো ঘৃণা হয়ে গেছে। ইতিহাসের যারা নায়ক তাদেরকে শ্রদ্ধা করতে শিখি। আমরা এও বলেছি যারা স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলো ভবিষ্যতে তাদের কোন স্থান দেওয়া যাবে না। জার্মানিতে নাৎসিরা কোন রাজনীতি করতে পারেন না। তারা লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। যারা এভাবে হত্যা করে তারা সেই পার্টিকে উঠতে দেয়নি। আজকে জামাতায় ইসলামি নিষিদ্ধ প্রত্যক্ষভাবে, কিন্তু পরোক্ষ ভাবে তারা বিএনপির নমিনেশন নিয়ে ২৫ উব্ধে ৪৫টি আসনে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে বলে মনে হচ্ছে। এর মধ্যে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন- বড় দুঃখের কথা,বঙ্গবন্ধুর খুব কাছের একটি মানুষ। নাম বলতে খারাপ লাগে। এত উচ্চ শিক্ষিত লোক। তার নাম ডঃ কামাল হোসেন। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় মাহীকে খুব স্নেহ করেন। তার হাতে নৌকা তুলে দিয়েছেন আমরা আনন্দিত হয়েছি। বঙ্গবন্ধুর নৌকার ইজ্জত রক্ষা করতে কাজ করার কথা জানান তিনি। বিকল্প ধারার যগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী বলেন, এত বিশাল একটি সংগঠন, এই সংগঠকে যদি ঐক্যবদ্ধ রাখা যায়, এই সংগঠনকে যদি একতাবদ্ধ রাখা যায়, তাহলে আমাদের নির্বাচনী বিজয় সহজ হবে। আর এই সংগঠনটা দ্বিধা বিভক্ত থাকে। আমরা মনে করছি নিজেদেরকে দ্বিধা বিভক্ত রেখে নির্বাচন করতে পারবো না। লাভবান হবে এই বিক্রমপুরের মাটিতে যিনি ককটেল বানানো শিখিয়েছেন সেই নেতা। আমার যতটুকু মনে আছে, জন্মের পর থেকে নৌকা মার্কার বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছি। আবার তার আগে দেখেন আমার দাদা কফিল উদ্দিন চৌধুরী ৫৪, ৭০ এর নির্বাচন নৌকা মার্কার পক্ষে করেছেন। আজকে। জাতি একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে,গতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আর এই ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করার জন্য আজকে জাঁতি একটি টার্নিং পয়েন্টে উপনীত হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ দেখেছে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ। বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য একত্র হতে হবে। দেশে আজ দুইটি ধারা স্পষ্ট। আমি যখন শুনি খুব দুঃখ পেতাম স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। স্বাধীনতা বিরোধীরা একটি শক্তিতে রুপান্তর হয়েছে। বিএনপি আজ স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে আতœার সম্পর্ক তৈরি করেছে। তারা অবস্থান নিয়েছেন স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। এরকম রাজাকার, আলবদর, চিহ্নিত স্বাধীনতা বিরোধীরা, পাকিস্থানের পেতাত্তাদের সামনে কিছু পর্দা, বোরকা দিয়ে দিয়েছে। যাতে মানুষ না বুঝতে পারে, এরকম একটি পর্দার নাম ডঃ কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির, মান্না। এই পর্দার আড়ালে চলা ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল। অন্যদিকে শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মী একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন-আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষযয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবীর প্রমুখ। সভায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীদের অংশগ্রহণে বিশাল আকার নেয়।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com