মঙ্গলবার  ১৮ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং  |  ৪ঠা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ১১ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

শ্রমশক্তি রপ্তানিতে দুর্বলতা

সম্পাদকীয়: কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় বেকার তরুণদের একটি বড় অংশ বিদেশে পাড়ি জমাতে চায়। তাদের একটি প্রধান গন্তব্য হচ্ছে মালয়েশিয়া। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই দেশেই গড়ে উঠেছে কিছু অসৎ ব্যক্তির সিন্ডিকেট। তারা সহজ-সরল তরুণদের সঙ্গে প্রতারণা করে তাদের সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে কিংবা তাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নিকট অতীতে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার জঙ্গলে অনেক গণকবর আবিষ্কৃত হয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দুই দেশের সরকার আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে কিছু নিয়ম-কানুন তৈরি করে এবং সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে শ্রমিক রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ থেকে একজন শ্রমিক পাঠাতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৩৫ হাজার টাকা। কিন্তু এখানেও গড়ে ওঠে সিন্ডিকেট। জানা যায়, সরকার যে ১০টি এজেন্সিকে রিক্রুটের দায়িত্ব দিয়েছে তারা নিয়ম মেনে কাজ করছে না। প্রত্যেক শ্রমিকের কাছ থেকে নির্ধারিত খরচের অতিরিক্ত তিন-চার লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। তার পরও শ্রমিকদের ঠিকমতো পাঠানো হচ্ছে না। এসংক্রান্ত সর্বশেষ খবর হচ্ছে, সব টাকা-পয়সা নেয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ২৫ হাজার শ্রমিককে পাঠানো যায়নি। এখন এই ২৫ হাজার শ্রমিকের ভাগ্য পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মালয়েশিয়ায় আগেও শ্রমিক পাঠানো নিয়ে অনেক জটিলতা হয়েছে। মালয়েশিয়া শ্রমিক নেওয়া বন্ধও করে দিয়েছিল। অনেক আলাপ-আলোচনার পর রপ্তানি ফের চালু হলেও নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ থেকেই যাচ্ছে। জনশক্তি রপ্তানির মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্রকে আমরা সঠিক পথে চালিত করতে পারছি না কেন? যতদূর জানা যায়, মালয়েশিয়ায়ই সাম্প্রতিক সময়ে বেকারত্বের হার বেড়েছে। তাই কত দিন তারা বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেবে বলা কঠিন। এরইমধ্যে আমরা যুদ্ধ, তেলের দরপতন, অর্থনৈতিক মন্দাসহ নানা কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক বাজার হারিয়েছি। অনেক দেশে শ্রমিক নেয়ার সংখ্যা কমেছে। এসব ক্ষেত্রে যেখানে যেটুকু সুযোগ তৈরি হয়, তার সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার করাটাই ছিল আমাদের কর্তব্য। কিন্তু বাস্তবে আমরা ভিন্ন চিত্রই দেখতে পাচ্ছি। কেন ২৫ হাজার শ্রমিক নির্ধারিত তারিখে মালয়েশিয়ায় যেতে পারেনি, তার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। এতে যদি কারো গাফিলতির বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমরা মনে করি, দুই দেশের সরকারের মধ্যে যখন কোনো চুক্তি হয়, তখন দুটি দেশেরই উচিত সেই চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলা। এই ২৫ হাজার শ্রমিক যেতে না পারার জন্য কোনো পক্ষে কতটুকু গাফিলতি ছিল তা খতিয়ে দেখে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com