মঙ্গলবার  ১৮ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং  |  ৪ঠা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ  |  ১১ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

৭০ বছরেও যেখানে জেতা হয়নি ভারতের

স্পোর্টস: এটাও ভারতের আরেকটা কৌশল হতে পারে। কী দরকার শুরুতেই নিজেদের ফেবারিট মেনে বাড়তি চাপটাপ নেওয়ার! তার চেয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ফেবারিট বলে দেওয়াই সুবিধাজনক। নিজেরা একটু হালকা হয়ে খেলা যায়। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর থেকে চার টেস্ট সিরিজের প্রথমটা শুরু অ্যাডিলেডে। সেটা সামনে রেখে গত মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে একাধিকবার ঘুরেফিরে এল সিরিজের ফেবারিট দলের প্রসঙ্গ। কিন্তু ভারতের সহ-অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানেও বারবার একই কথা বলে গেলেন, ‘আমরা নই, এবারও ওরাই (অস্ট্রেলিয়া) ফেবারিট।’ তা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়াই ফেবারিট থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। অস্ট্রেলিয়া সফরের দীর্ঘ ৭০ বছরের ইতিহাসে কখনো সিরিজ জিতে ফেরা হয়নি ভারতের। ১১টি সিরিজের ৮টিতেই হার, ৩টি ড্র। সর্বশেষ ড্র সিরিজটাও প্রায় ১৫ বছর আগে। এমন একতরফা পরিসংখ্যানের পর এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এত কথাই-বা হলো কেন? হলো কারণ এবারের সিরিজটাকে ঠিক অন্য সব সিরিজের সঙ্গে মেলানো যাবে না। বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট আসলেই টালমাটাল অবস্থায়। নিষিদ্ধ হয়ে আছেন স্টিভেন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যামেরন ব্যানক্রফট। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ায় অদল-বদলের ঝড় বয়ে গেছে। স্মিথ-ওয়ার্নারের অনুপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের মেরুদন্ডই নড়বড়ে করে দিয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও। সর্বশেষ পাঁচ টেস্টের একটিও জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। চারটি হার, একটি ড্র। সিরিজ হারতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের কাছে। অন্যদিকে ভারত এ মুহূর্তে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল। অধিনায়ক বিরাট কোহলি ব্যাট হাতে আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। সবচেয়ে বড় কথা, অস্ট্রেলিয়ায় গেলে চিরকালই প্রতিপক্ষ পেসারদের তোপে পড়ার একটা ভয় থাকে ভারতের। কিন্তু জবাব দেওয়ার কেউ থাকে না নিজেদের দলে। এবার সেই ভারতই অস্ট্রেলিয়ায় গেছে দুর্দান্ত এক পেস আক্রমণ নিয়ে। নতুন ও পুরোনো বলে সমান স্বচ্ছন্দ মোহাম্মদ শামি, উমেশ যাদবের গতি, ইশান্ত শর্মার বাউন্স আর ভুবনেশ্বরের সুইং সমস্যায় ফেলতে পারে যেকোনো প্রতিপক্ষকে। কোচ রবি শাস্ত্রী যেটাকে বলছেন, ভারতের ইতিহাসে সেরা পেস আক্রমণ। শামি-যাদব-শর্মা-ভুবিদের পারফরম্যান্সও কোচের এই প্রশংসার পক্ষে প্রামাণিক দলিল হিসেবে কাজ করবে। এ বছর এখন পর্যন্ত ১১টি টেস্ট খেলেছে ভারত, এর মধ্যে ৩টি দেশে আর ৮টি দেশের বাইরে। এই ১১ টেস্টে ভারতীয় স্পিনাররা নিয়েছেন ৬৫ উইকেট, পেসাররা নিয়েছেন ১৩২ উইকেট। সব মিলিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো যে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া জয়ের একটা প্রত্যাশা ছড়িয়ে দিতে পেরেছে, সেটাকে বাড়াবাড়ি বলা যাচ্ছে না ঠিক। সেই প্রত্যাশার চাপটা নিতে চান না বলেই হয়তো কাল রাহানে উল্টো বললেন, ‘যে দল নিজের দেশে খেলা, ওরাই সব সময় বেশি স্বছন্দ থাকে। আমি মনে করি, এবারও অস্ট্রেলিয়াই ফেবারিট। আমরা ওদের একটুও হালকাভাবে নেব না৷ এটা ঠিক, স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার নেই ওদের দলে। তাই বলে এমনটা মনে করার কারণ নেই যে, ওদের সহজেই হারানো যাবে৷’অস্ট্রেলিয়াকে ফেবারিট বলার আর একটা কারণও দেখালেন রাহানে, ‘ওদের বোলিং আক্রমণের দিকে তাকান৷ অত্যন্ত শক্তিশালী বোলিং লাইনআপ নিয়ে টেস্ট সিরিজ খেলতে নামছে অস্ট্রেলিয়া৷ আমার ধারণা, টেস্ট সিরিজ জয়ের জন্য সবার আগে দরকার একটা দারুণ বোলিং আক্রমণ, যেটা ওদের রয়েছে৷ তাই অস্ট্রেলিয়াই এগিয়ে থাকবে সিরিজে৷’
তাঁর কথা কতটা সত্যি আর কতটা কৌশলের অংশ, সিরিজ শুরু হলেই বোঝা যাবে সেটি।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com