আন্তর্জাতিক : আগ বাড়িয়ে ব্যাপক শক্তিশালী’ হামলা চালানো হবে বলে সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সঙ্গে ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার’ জন্য হুঁশিয়ার করেছে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে চাপ সৃষ্টির পথ খোঁজ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন যখন এমন কথা বলছেন তখন উত্তর কোরিয়া এ হুঁশিয়ারি দিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। উন ঘনিষ্ঠ ও একমাত্র মিত্র চীনের পরামর্শ উপেক্ষা করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উত্তর কোরিয়া নিয়মিতভাবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে আসছে। গত গত শনিবার জাতীয় দিবস ‘সূর্যের দিনে’ দেশটি রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের এক সামরিক প্যারেডে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক প্রদর্শনী করে দেশটি। এর পরদিন রোববার নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এ পরিস্থিতিতে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে টিলারসন বলেন, “উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে সবগুলো অবস্থান পর্যালোচনা করে দেখছি আমরা। এগুলোর মধ্যে সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা থেকে শুরু করে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টির অন্যান্য পথগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে পিয়ংইয়ংকে আমাদের সঙ্গে ফের আলোচনার বসানোর বিষয়টিও থাকছে, তবে আগে যেভাবে আলোচনা হয়েছে তার চেয়ে অন্যভাবে আলোচনা করবো আমরা। এশিয়া সফররত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে জানান, উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে ‘কৌশলগত ধৈর্যের সময়’ শেষ হয়ে গেছে। লন্ডন সফররত দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পল রায়ানও উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন। অপরদিকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির দাপ্তরিক মুখপাত্র রোদোং সিনমুন বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আমাদের সঙ্গে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা উচিত হবে না। এ ধরনের কিছু হলে আগ বাড়িয়ে ব্যাপক শক্তিশালী হামলা চালানো শুরু করা হবে, এতে তাৎক্ষণিকভাবে দক্ষিণ কোরিয়া ও এর আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের সা¤্রাজ্যবাদী দখলদার বাহিনীকেই শুধু সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হবে না, যুক্তরাষ্ট্রের মূলভূমিকেও ছাইয়ে পরিণত করা হবে। এসব বক্তব্য ব্যাখ্যা করে বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি রোদোং সিনমুন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে