আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ‘ভাবমূর্তিতে ধস নামার মতো’ তথ্য থাকতে পারে ভেবে গত বছর রাশিয়ার এক সরকারি নারী আইনজীবির সঙ্গে দেখা করতে ‘উদগ্র আগ্রহের’ সঙ্গে সম্মত হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র।
তার বাবার পক্ষে ‘মস্কোর সরকারি সমর্থনের অংশ হিসেবে’ ওই নারী এসব তথ্য দিতে পারেন বলে ট্রাম্প জুনিয়রকে বলা হয়েছিল, গত মঙ্গলবার প্রকাশিত হওয়া ট্রাম্প জুনিয়রের ইমেইলগুলো থেকে এসব কথা জানা গেছে।
এর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল, নির্বাচনী প্রচারে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সহায়তা করার ‘মস্কোর চেষ্টার অংশ হিসেবেই’ ওই রুশ আইনজীবী হিলারি সম্পর্কে ‘স্পর্শকাতর’ তথ্য দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, ট্রাম্প জুনিয়রকে এমন কথাই জানানো হয়েছিল।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সংগীত প্রকাশক রব গোল্ডস্টোন ২০১৬ সালের জুনে ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে রুশ আইনজীবী নাতালিয়া ভেসেলনিৎস্কায়ার বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন এবং একটি ইমেইলে ট্রাম্পের ছেলেকে ওই কথা জানিয়েছিলেন।
গত মঙ্গলবার ওই ইমেইলটিই টুইটারে প্রকাশ করেন ট্রাম্প জুনিয়র।
প্রকাশিত ইমেইলে দেখা যায়, গোল্ডস্টোন বলছেন, “রাশিয়ার ক্রাউন প্রসিকিউটর ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবিরকে কিছু দাপ্তরিক কাগজপত্র ও তথ্য দিতে চান যাতে হিলারিকে গ্রেপ্তার এবং রাশিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয় আছে, এটি আপনার বাবার জন্য বেশ কার্যকর হতে পারে।”
জবাবে ট্রাম্প জুনিয়র বলেন, “তুমি যেমন বলছ এটা যদি তাই হয়, তবে আমার খুবই ভাল লাগবে।”
বিষয়টি নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস একটি প্রতিবেদন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ওই বিষয়ে ট্রাম্প জুনিয়রের মন্তব্য চাওয়ার পরপরই টুইটারে এই ইমেইল প্রকাশ করেন তিনি।
গোল্ডস্টোনই নাতালিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প জুনিয়রের ওই বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমের খবর।
রয়টার্স বলছে, গোল্ডস্টোন নাতালিয়াকে ‘ক্রাউন প্রসিকিউটর’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও এই পদবীর কোনো সরকারি পদ রাশিয়ায় নেই; কাছাকাছি যে পদ আছে সেটি ‘প্রসিকিউটর জেনারেল’।
প্রকাশিত ইমেইলে দেখা গেছে, ট্রাম্পের ছেলে হিলারি সম্পর্কে ‘খুবই উচ্চ পর্যায়ের স্পর্শকাতার তথ্য পেতে’ ওই রাশিয়ার অ্যাটর্নির সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী হন যাকে ‘ট্রাম্পের জন্য রাশিয়া ও তার সরকারের সহযোগিতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
গত বছরের ৯ জুন ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
রয়টার্স বলছে, নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প শিবিরের কর্মকর্তারা রাশিয়ার সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছিল- এই ইমেইলকে তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্বাচনে জিতেছিলেন, এই বিষয়কে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের আকাশে কালো মেঘ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ও বিচার বিভাগের তদন্ত চলছে।
পরে ফক্স নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জুনিয়র বলেন, রাশিয়ান আইনজীবী নাতালিয়া ভেসেলনিৎস্কায়ার সঙ্গে ওই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্পের তখনকার নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপক পল ম্যানাফোর্ট ও ট্রাম্পজামাতা কুশনারও উপস্থিত ছিলেন।
যদিও ওই বৈঠকে নাতালিয়া হিলারি সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি, উল্টো তিনি রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী ছিলেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্পপুত্র।
ক্রেমলিনের সঙ্গে কোনোরকম যোগসাজশের কথা অস্বীকার করেছেন নাতালিয়াও।
গত মঙ্গলবার এনবিসি নিউজকে ভেসেলনিৎস্কায়া বলেন, তার কাছে হিলারি সম্পর্কে কখনওই কোনও স্পর্শকাতর তথ্য ছিল না।
মস্কোও মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, নির্বাচনে রাশিয়ার সঙ্গে তার শিবিরের কোনও যোগসাজশ ছিল না।
তবে ট্রাম্পের কোনও সহযোগী রাশিয়া সরকারের সঙ্গে যোগসাজশ করে গতবছরের নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে প্রকাশিত এই ইমেইলের বিষয়টি এখন তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলেই বিবেচিত হবে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে