স্পোর্টস: টেস্ট ক্রিকেট কি টিকে থাকবে? এ প্রশ্ন হরহামেশাই উঠত একসময়। টি-টোয়েন্টির যুগ ভালোভাবে জেঁকে বসার পর অবশ্য প্রশ্নটা বদলেছে। এখন প্রশ্ন তোলা হয়, ওয়ানডে টিকবে তো!
রঙ্গ-তামাশার টি-টোয়েন্টি এখন ‘সিরিয়াস বিজনেস’। প্রতিটি দেশই ঘটা করে টি-টোয়েন্টির ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ চালু করছে। যারা পারছে না, তাদের খেলোয়াড়েরা ছুটছেন অন্য দেশে। বিনোদনপ্রত্যাশী দর্শকদের জন্য হলেও টি-টোয়েন্টি টিকে থাকবে। টেস্টও টিকে থাকবে তার আভিজাত্য দিয়ে। কিন্তু ওয়ানডের ক্ষেত্রে কী হবে? তার না আছে কৌলীন্য, না আছে টি-টোয়েন্টির মতো গ্ল্যামার! ক্রিকেটকে অন্য মাত্রা এনে দেওয়া এই সংস্করণ কি তবে হারিয়েই যাবে? এমন আশঙ্কা এখন আর অমূলক কিছু না। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান, ধারাভাষ্যকার ও বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে কোচিংয়ে ব্যস্ত থাকা ডিন জোন্স অবশ্য এখনো আশা ছাড়েননি। ওয়ানডেকে টিকিয়ে রাখার জন্য কিছু উপায়ও বাতলে দিয়েছেন জোন্স…

দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলো মোটেও আকর্ষণীয় নয়। বরং আরও বেশি বেশি ত্রিদেশীয় সিরিজ দেখতে চাই। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে হওয়া একটা ত্রিদেশীয় সিরিজ কে না দেখতে চায়!

ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিভি দর্শকসংখ্যা এখনো প্রচুর। তবে টুর্নামেন্টগুলো আরও জমাটি করতে হবে। ১৯৯২ সালে নয় দল বিশ্বকাপ খেলেছে, তখন সব দল একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। আমার ওটাই পছন্দ। শ্রীলঙ্কা যেমন এখনো বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে পারেনি। যদি যেতে না পারে, তার মানে ওরা এর উপযুক্ত নয়!

বোর্ড-খেলোয়াড় দ্বন্দ্ব শেষে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের ওয়ানডে সিরিজ হচ্ছে, এতে আমি খুশি। কিন্তু আমার চোখে এটা অর্থহীন একটা সিরিজ। আশা করছি, এঁদের দ্বৈরথ ও দুই পক্ষের কিছু আকর্ষণীয় চরিত্র সিরিজটি জমিয়ে দেবে। বিরাট কোহলি ও অজিঙ্কা রাহানেকে আমার ভালো লাগে কারণ ওরা ক্ল্যাসিক টেকনিকের সঙ্গে দুপাশেও খেলতে পারে। সেখানে আমাদের (অস্ট্রেলিয়া) কিছু ব্যাটসম্যান শুধু সামনে খেলতে পারে এবং ওদের ব্যাক লিফট খুব বাজে। অস্ট্রেলিয়াতে যেহেতু ইদানীং একদম ফ্ল্যাট উইকেট তৈরি করে রাখা হচ্ছে, তাই তারা পার পেয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চালু করা হোক। দশ দলকে দুটো গ্রুপে ভাগ করে দেওয়া হোক। সবাই চারটি করে ম্যাচ খেলুক। যদি চার দিনের টেস্ট আয়োজন করা হয়, প্রতিদিন ১০০ ওভার করে খেলা চলে, তবে ৫০ দিনেই পুরো ব্যাপারটা শেষ করা সম্ভব। ৩০০ রান করলে ৪ পয়েন্ট। প্রতিপক্ষকে ১০০ ওভারের মধ্যে অলআউট করলেও পয়েন্ট এভাবে করলে দলগুলো আগ্রাসী খেলা খেলবে। প্রতি চার বছরে তিনবার এটা আয়োজন করা যায়, খেলাটার জন্যও ভালো হবে।

ব্যাটের ওপর কড়াকড়ি আসায় এবার ব্যাটের হাতলে নজর দেবে সবাই। গলফ ক্লাবের ব্যাপারটা খেয়াল করুন। এটা ছোটখাটো লোকজন কী সহজে বলকে ৩০০ মিটার দূরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এর কারণ গলফের হাতল গলফারের হাত ও হাতের স্পিড অনুযায়ী তৈরি করা হয়। গেইল, পোলার্ড বা আন্দ্রে রাসেলের মতো খেলোয়াড়েরা এখনই লম্বা হাতলের ব্যাট নিয়ে নামছে। এর ফলে ব্যাট আরও ওপরে ধরা যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় শক্তি পাচ্ছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন উপায় বের করতে হবে যেন হাতের মধ্যে ব্যাট ঘুরে না যায়, সে ব্যবস্থা করা।

আমি বিশ্বাস করি, ক্রিকেটে কোনো এক নম্বর দল নেই। পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো ম্যাচ না খেলে ভারত কীভাবে এক নম্বর হয়! আমি এ দুই দলের টেস্ট সিরিজ দেখতে চাই। পাকিস্তান সুপার লিগ দিয়ে ওরা বেশ এগিয়েছে। এখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ঠিক করলেই চলবে। আর গত কিছুদিন তো লন্ডনসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি জায়গায় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। সেখানে কিন্তু ঠিকই সব ধরনের খেলাই চলছে। কিন্তু পাকিস্তানে যেতে রাজি হচ্ছে না কোনো দল। আমার দৃষ্টিতে এটা তো ভন্ডামি।

ব্যাটিংয়ের দৌড়ে রান নেওয়া এখনো আগের মতোই আছে, খুব একটা উন্নতি হয়নি। যখন নো বলের রিপ্লে দেখায়, আমি খুব আগ্রহ নিয়ে নন-স্ট্রাইকিং ব্যাটসম্যানকে দেখি। অধিকাংশই উইকেটের দিকে তাকিয়ে থাকে, অথচ তাদের বোলারের দিকে আড়াআড়িভাবে থাকা উচিত। তারা সোজা দৌড়াতেও জানে না। একমাত্র মহেন্দ্র সিং ধোনি ব্যতিক্রম। সে শুধু জোরেই দৌড়ায় না, খুব দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে ফেলে।

প্রতিটি আউটেই নো বল দেখা হয় এখন, খুব বিরক্তিকর। খেলার মুহূর্তকেই নষ্ট করে দেয়। এটা করে মাঠেই তৃতীয় আম্পায়ার আনুক, যে এটা দেখবে। ইদানীং আম্পায়াররা খুব বেশি ভুল করছে এ ব্যাপারে। বোলারদের কারণে ক্রিজের লাইন দেখতে অসুবিধা হচ্ছে এখন।

প্যাটারসন, অ্যামব্রোস, মার্শাল ও হোল্ডিংকে খেলার পর আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, বর্তমানে অমন ভয় জাগানো বোলার নেই। বোলারদের মান কমে গেছে। নিয়মিত ঘণ্টায় দেড় শ কিলোমিটার গতিতে বল করা বোলার খুবই কম। সূত্র: ডেকান ক্রনিকলস।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে