আর্ন্তজাতিক: ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক এক সফরে ভিয়েতনামে গিয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস কার্ল ভিনসন।
দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের অব্যাহত প্রভাব বৃদ্ধির কারণে এক সময়কার দ্ইু শত্রুরাষ্ট্র ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্যেই রণতরীটির এ সফর।
দুটি মার্কিন জাহাজ সঙ্গে নিয়ে এক লাখ তিন হাজার টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন কার্ল ভিনসন সোমবার থেকে ভিয়েতনামে পাঁচদিনের সফর শুরু করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
” এ সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও স্বতন্ত্র ভিয়েতনামের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেরও প্রদর্শনী এটি। কঠোর পরিশ্রম, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে অতীতকে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে শত্রু থেকে আমরা ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ অংশীদারে পরিণত হচ্ছি,” এক বিবৃতিতে এমনটিই বলেছেন ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডেনিয়েল ক্রিটেনব্রিক।
১৯৭৫-এর পর ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি হিসেবেই ভিনসনকেই বিবেচনা করেছেন পর্যবেক্ষকরা; এটি দক্ষিণ চীন সাগরের বিবাদ নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে হ্যানয়ের জটিল ও পরিবর্তনশীল সম্পর্ককে তুলে ধরছে বলেও মন্তব্য তাদের।
সফরের কয়েক মাস আগে থেকেই ভিয়েতনামের কূটনীতিকরা ভিনসেনের উপস্থিতি ও হ্যানয়-ওয়াশিংটনের বিস্তৃত নিরাপত্তা সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে চীনের উদ্বেগ কমাতে চেষ্টা করে আসছিল বলে আলোচনা সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।
স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জে চীনের বিতর্কিত ভূমি ও স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে ভিয়েতনাম এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিগুলো প্রায়ই উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। বিতর্কিত ওই সমুদ্রসীমার বেশিরভাগ অংশই চীন নিজেদের বলে দাবি করে আসছে, এই এলাকাটি দিয়ে প্রতি বছর তিন ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক আদান-প্রদান চলে।
চীনা অনেক পর্যবেক্ষক মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর পাল্টায় দক্ষিণ চীন সাগরে আরও সামরিক উপস্থিতির দাবি জানালেও জানুয়ারিতে ভিনসেনের সফর ঘোষিত হওয়ার পর থেকে এ নিয়ে বেইজিং তুলনামূলক নীরব বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
হ্যানয় ও পেন্টাগনের মধ্যে কয়েক মাসের ধারাবাহিক আলোচনার অগ্রগতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেমস ম্যাটিসের দুইদিনের সফরের পর রণতরীটির ভিয়েতনাম আসার দিনক্ষণ ঠিক হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের পর থেকে ভিয়েতনামে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরী না এলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চপর্যায়ের সফরে বেশ কয়েক বার ছোট ছোট মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এসেছে; যার মধ্যে ২০১৬ সালে কাম জ্যাং বে-তে মার্কিন সাবমেরিন ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ক্যাবল ও নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী জাহাজ ইউএসএস জন ম্যাককেইনের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
ভিনসেনের সফরে মার্কিন নৌ-ব্যান্ড দল একটি কনসার্টে অংশ নেবে বলে জানিয়েছ রয়টার্স; যুদ্ধের সময় ‘এজেন্ট অরেঞ্জ’ রাসায়নিক হামলায় আহতদের একটি চিকিৎসা কেন্দ্রেও রণতরীটির নাবিকদের সময় কাটানোর কথা রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে