ডিএ: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর ভাঙ্গন আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ৩টি ইউনিয়নের কয়েকশ মানুষ। গত সপ্তাহে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তিস্তা নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় শতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ী সহ শতাধিক হেক্টর ফসলী জমি। ফলে তিস্তার নদীর পাড়ে সহস্রাধিক মানুষ ঘরবাড়ী বিলীনের আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে। উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মন্দির পাড়ামৌলা গ্রামের বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধ, ঘড়িয়ালডাঙ্গা খিতাব খাঁ বুড়ির হাট বাঁধ হুমকার মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া নাজিমখান ইউনিয়নের রতিদেব গ্রামের ফসলী জমি ও অর্ধশতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ী তিস্তা নদী গর্ভে বিলীনের পথে। এসব এলাকায় স্পার বাঁধে গ্রোয়েন বাঁধ দেয়া না হলে কিছুতেই ভাঙ্গন ঠেকানো যাবে না। স্থানীয় জন প্রতিনিধি লাভলু মিয়া ও খোরশেদ আলম জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কুড়িগ্রাম পাউবো বিভাগ নদী ভাঙ্গন রোধের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন না করলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়বে পাউবোর তিস্তা রক্ষার বেরী বাঁধ ও ক্রস বাঁধ। তাই তিস্তা পাড়ের মানুষজন বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে থাকা গৃহবধু রাবেয়া ও আম্বিয়া বেগম জানান, আমাগো জায়গা তিস্তা নদী গ্রাস করছে। এবারে ৩বিঘা জমির আমন ধান করেছি তাও খায়া গ্যাছে। তিস্তার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আনছার আলী (৫৪), দুলাল(৪৬), আষাঢু(৪৫), চিনুনাথ (৪৯), সামাঢু(৪৫) বলেন, এই এলাকায় প্রায় ৩শতাধিক মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। এই নদী শাষনের ব্যবস্থা না করা হলে শুধু আমরা না তিস্তা রক্ষা বেরী বাঁধ ভেঙ্গে রাজারহাট শহর পানিতে ডুবে যাবে। এ প্রসঙ্গে বিদ্যানন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ তাইজুল ইসলাম বলেন, আমি বিষটি পাউবোর কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। নদী ভাঙ্গন রোধের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে আরো বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়বে তিস্তা পাড়ের মানুষ ও তিস্তা রক্ষা বাঁধ।১৮ সেপ্টেম্বর গতকাল মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্র বাধে ভাঙ্গন ঠেকাতে জিও বস্তায় বালু ভর্তি করে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। ১৮ সেপ্টেম্বর গতকাল মঙ্গলবার এ ব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সাথে সমন্বয় করে ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে