ডিএ: গাইবান্ধার সাত উপজেলা নিয়ে গঠিত পাঁচটি সংসদীয় আসনে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৫১ জন সম্ভাব্য প্রার্থী। এ জেলায় বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৩২ জন। এখানকার প্রতিটি আসনে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এ ছাড়া গাইবান্ধা-৩ ও ৫ আসনে জাসদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন দুইজন। গাইবান্ধা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন তিনজন। এ ছাড়া গাইবান্ধা-৫ আসনে সিপিবির একজন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানকার পাঁচটি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হন। তবে এ বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ী হয়।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ): এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বড় বোন ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরুজা বারী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দা মাসুদা খাজা, সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফার ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী মোস্তফা মাসুম, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম রঞ্জু ও আশরাফুল আলম লেবু।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন চারজন। তারা হলেন- সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ মোজহারুল ইসলাম,সাবেক সভাপতি ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক ও জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়া। চলতি বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে এ আসনে এমপি নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি এবারও দলের একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন তিনজন। তারা হলেন- গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সদস্য এমদাদুল হক নাদিম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াত নেতা অধ্যাপক মাজেদুর রহমান ও (অব.) প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক।
গাইবান্ধা-২ (সদর): এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন আটজন। বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামস-উল আলম হিরু, সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক ছাড়াও মনোনয়ন ফরম কিনেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুর রহমান টুটুল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঘাগোয়া ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর জামান রিংকু ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ্ সারোয়ার কবীর ও ব্যারিস্টার মাসুদ আকতার পলাশ। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ছয়জন। তারা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক জেলা বিএনপি সভাপতি আনিছুজ্জামান খান বাবু, জেলা বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি খন্দকার আহাদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নব্বী টিটুল, সাবেক এমপি রওশন আরা ফরিদ, জেলা বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক ছানা ও সাবেক ছাত্রনেতা আতিফ মাহমুদ সাজিদ। এ আসনে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন সাবেক এমপি ও জেলা জাপার সভাপতি আবদুর রশিদ সরকার।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী): এ আসনে বর্তমান আওয়ামী লীগের এমপি ডা. ইউনুস আলী সরকার, সংরক্ষিত নারী এমপি উম্মে কুলসুম স্মৃতিসহ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ২০ জন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বক্কর প্রধান,সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ, সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. শাহারিয়া খাঁন বিপ্লব, পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারোয়ার বিপ্লব,সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহদীপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম ম-ল,জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক মতিয়ার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য, গাইবান্ধা আইন কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম প্রধান, আওয়ামী লীগ নেতা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হক, কৃষক নেতা আজিজার রহমান বিএসসি, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মাহাবুব আলম ও মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী শ্যামলী আকতার। এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী চারজন। তারা হলেন- জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, ঢাবির সাবেক ছাত্রনেতা ড. মিজানুর রহমান মাসুম, ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রফিক ও সাবেক এমপি রওশন আরা ফরিদ। জাতীয় পার্টির ঘোষিত একক প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী ও জাসদের একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাবেক ভিপি,ইউপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এ ছাড়া জামায়াত নেতা পলাশবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ): বর্তমান সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক এমপি প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন নয়জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে অন্যতম গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মহিমাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ প্রধান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের পাট ও বস্ত্র বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল ইসলাম লিটন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রধান আতাউর রহমান বাবলু ও সহ-সভাপতি ফেরদাউস আলম রাজু। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন সাতজন। তারা হলেন- সাবেক এমপি শামীম কায়সার লিংকন,কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক কবীর আহমেদ, পৌর বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ,সাধারণ সম্পাদক আলতাব হোসেন পাতা, উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম ও সহ-সভাপতি ওবায়দুল হক বাবলু। স্বতন্ত্র হিসেবে এ আসনে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ডা. আবদুর রহিমের মনোনয়ন ফরম কেনার কথা রয়েছে। জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে এ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. কাজী মো. মশিউর রহমান।
গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি): এ আসনে বর্তমান এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়াসহ নয়জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। অন্যরা হলেন- বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম সেলিম পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন, সাঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়ারেস আলী প্রধান, সাধারণ সম্পাদক শামছুল আরেফিন টিটু, মাহাবুবুর রহমান লিটল, আওয়ামী লীগের সমর্থক, কণ্ঠশিল্পী সুশীল কুমার সরকার ও বর্তমান এমপি ফজলে রাব্বীর মেয়ে অ্যাডভোকেট রিতা। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- সাঘাটা সভাপতি মোহাম্মদ আলী,ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তোফায়েল আহমেদ,সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম নান্নু, জেলা বিএনপির সদস্য ময়নুল ইসলাম শামীম, শিল্পপতি হাসান আলী, বিএনপি নেতা আরশাদুল কবীর রাঙ্গা, সেলিম আহমেদ তুলিপ ও নাজমুল ইসলাম নয়ন। এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন দুইজন। তারা হলেন- ফুলছড়ি উপজেলা জাপার সভাপতি আশরাফ আলী ও সাঘাটা উপজেলা জাপার সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম শহীদ রঞ্জু। তবে গোলাম শহীদ রঞ্জুকেই দলের চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ আগেই একক প্রার্থী ঘোষণা করেন। এ আসনে জাসদের অ্যাডভোকেট জামিল এবং সিপিবির যশেশ্বর কুমার বর্মন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে