এরশাদের চিকিৎসা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই: জি এম কাদের

0
4

ডিএ: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার চিকিৎসায় ‘বাধা ’আসার অভিযোগ করলেও তার ভাই দলের কো চেয়ারম্যান জি এম কাদের এবং মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন ভিন্ন কথা। জি এম কাদের বলছেন, ৮৮ বছর বয়সে ‘যতটা’ সুস্থ থাকার কথা, ‘ততটা’ সুস্থ এরশাদ আছেন। তার চিকিৎসা নিয়ে ‘ধূম্রজালের’ কোনো সুযোগ নেই। আর মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, এরশাদ বড় রকমের অসুস্থ- এটা মনে করার মত কিছু ঘটেনি। তার বিদেশে যাওয়ার বিষয়েও কোনো বাধা নেই। নির্বাচন সামনে রেখে পার্টির মনোনয়নপ্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না এরশাদকে। তার অসুস্থতার বিষয়ে জাতীয় পার্টির এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দেওয়া হচ্ছিল সাংবাদিকদের। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করেই বনানীতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে এসে গাড়িতে বসে নেতাকর্মীদের সামনে কয়েক মিনিট কথা বলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। এরশাদ বলেন, আজ বলতে এসেছি, আমাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না, এগিয়ে যাব। আমার বয়স হয়েছে, চিকিৎসা করতে দেবে না; বাইরে যেতে দেবে না। মৃত্যুকে ভয় করি না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এরশাদ নাটকীয় অসুস্থতা নিয়ে সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে ভর্তি থাকা অবস্থাতেই তিনি এমপি নির্বাচিত হন এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্ব পান। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এরশাদের ফের সিএমএইচে ভর্তির খবরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন চলছিল। তার মধ্যেই এরশাদের ওই বিস্ফোরক বক্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় পার্টির বনানীর কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন তার ভাই জিএম কাদের। তিনি বলেন, এরশাদ সাহেব একজন বয়স্ক রাজনীতিবিদ, ওঁর বয়স হয়েছে। এই বয়সে স্বাভাবিক কারণেই শারীরিক অনেক সমস্যা দেখা যায়। উনারও সমস্যা হচ্ছে। কাদের বলেন, চিকিৎসকরা এরশাদকে যতটুকু ‘দৌঁড়ঝাঁপ’ করার অনুমতি দিয়েছেন, তিনি তার চেয়ে বেশি করেন। এটা তার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ডাক্তাররা উনাকে বিধিনিষেধ দেন- ‘এখানে যেতে পারবেন, ওখানে যেতে পারবেন না। বসে থাকতে হবে, ঘুমাতে হবে। এমন বাধা তো আমরা অসুস্থ হলে আমাদের দিতেন চিকিৎসকরা। পরমুহূর্তেই কাদের বলেন, তবে তার চিকিৎসায় বাধা আছে বা তিনি ভীষণ খারাপ অবস্থার মধ্যে আছেন, তাও কিন্তু নয়। তবে উনি যে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন, তাও নয়। এক প্রশ্নের জবাবে জি এম কাদের বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য এরশাদের সিঙ্গাপুর যাওয়া নিয়ে দল ‘উৎকণ্ঠিত নয়’। ডাক্তাররা যদি বলেন, এখানে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে, তাহলে কেন তাকে নিয়ে যাব? তবে তারা যদি মনে করেন, এখানকার চিকিৎসা যথেষ্ট নয়, উনাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যেতে হবে; তখন নিয়ে যাওয়া হবে। এটা নিয়ে আমরা উৎকণ্ঠিত নই। এরশাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান বলেন, তিনি যতটুকু সুস্থ থাকার কথা, ততটুকু আছেন। তবে সম্পূর্ণ সুস্থ এটা বলা বোধ হয় ঠিক হবে না। শারীরিক অবস্থা যাই হোক, এরশাদ দলীয় সব কর্মকা-ে সম্পৃক্ত আছেন এবং তার নির্দেশনায়, তার নিয়ন্ত্রণেই জাতীয় পার্টি চলছে বলে মন্তব্য করেন জি এম কাদের। এরশাদ ঠিক কী ধরনের অসুস্থতায় ভুগছেন জানতে চাইলে খানিকটা বিরক্ত হয়েই তার ভাই বলেন, অসুখের ব্যাপার হল পারসোনাল ব্যাপার। অসুখের ইনফরমেশন দিতে আমি বাধ্য নই। এটা আমি দেব না। এটা কোনো হসপিটালে চাইলেও পাবেন না। নির্বাচনের আগে এরশাদের বিদেশে যাওয়া নিয়ে সরকারের দিক থেকে কোনো নিষেধ আছে কি না- এ প্রশ্নও জি এম কাদেরে কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, কদিন আগে দলে বড় রদবদল হয়েছে (মহাসচিব পরিবর্তন)। তিনি দল পরিচালনা করছেন। তিনি কন্ট্রোলে আছেন। এটার (নিষেধ) কোনো কারণ নেই। এটা নিয়ে আমি মনে করি, কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। বিধি নিষেধ যদি থাকত, তাহলে দলের রদবদল তো হল, সেটা আর সম্ভব হত না। কাদেরের ভাষায় এ ধরনের একটি কথা গতবার ‘রটেছিল’। এ কারণে এবারও তেমন আশঙ্কার কথা কেউ কেউ বলছেন। এরশাদের চিকিৎসায় বাধার অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেন, এটা মনে করার কারণ নাই যে তিনি বড় ধরনের অসুস্থতার মধ্যে রয়েছেন। উনি যখনই মনে করেন যে অসুস্থতাজনিত কারণে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যেতে হবে, আমরা যাব। সেটা নিয়ে কোনো বাধা নাই। রাঙ্গাঁর দাবি, মহাজোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির পরই এরশাদ সিঙ্গাপুরে যেতে চান। নমিনেশন পেপার উইথড্র করার সময় শেষ হচ্ছে ৯ তারিখে। আমরাই উনাকে বলছি, স্যার ৯ তারিখের পরে যান। অসুবিধার তো তেমন কিছু নাই। পার্টির প্রধান দেশের বাইরে থাকলে আমাদেরও তো খারাপ লাগে। পার্টির অফিসের সামনে গাড়িতে বসে দুপুরে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পর এরশাদ বাসায় ফিরে যান। পরে অনুষ্ঠানে তিনি টেলিফোনের মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কথা বলেন। জাতীয় পার্টি একটি ‘কঠিন সময়’ মন্তব্য করে এরশাদ বলেন, সামনে আরও কঠিন সময় আসবে। তবে পার্টির জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। জাপা থাকবে, জাপা আছে। আমাদের সুদিন আসবে। নির্বাচনী প্রচারের শুরুতে এরশাদ ৩০০ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার কথা বললেও পরে মহাজোটে থেকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন। এখন মহাজোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির দর কষাকষি চলছে। সেদিকে ইঙ্গিত করে এরশাদ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এবার ৩০০ আসন না পেলেও নিরুৎসাহিত হওয়ার কোনো কারণ নাই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে