ডিএ: লালমনিরহাট বিমানবন্দরে সফলভাবে উড়োজাহাজের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন ও অবতরণ করানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর বিমান বাহিনীর দু’টি ফিক্সড উইং উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণ করে। জেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণে বিমানবন্দরটি চালু করতে এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ বিষয়ে আন্তঃবাহিনী সংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও বুধবার বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এ বিমানবন্দর পরিদর্শনে আসবেন বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ও হারাটি ইউনিয়নের এক হাজার ১৬৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে ১৯৩১ সালে এ বিমান ঘাঁটি তৈরি করেন তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনী এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এ বিমানবন্দরটি ব্যবহার করে। ১৯৪৫ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটি অব্যবহৃত হিসেবে জৌলুস হারাতে বসে। তবে ১৯৫৮ সালে স্বল্পপরিসরে বিমান সার্ভিস চালু হলেও তা বেশি দিন আলোর মুখ দেখেনি। দেশ স্বাধীনের পর এ বিমানবন্দরে বিমান বাহিনীর হেডকোয়ার্টার করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পরিত্যক্ত থেকে যায়। ফলে ৪ কিলোমিটার রানওয়ে, বিশাল টারমাক, হ্যাঙ্গার, ট্যাক্সিয়ে- এগুলো সবই পরিত্যক্ত থেকে যায়। ১৯৮৩ সাল থেকে এখানে কৃষি প্রকল্প গড়ে তোলে বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষ। বুড়িমারী স্থলবন্দরের পাসপোর্টধারী ভারত, ভুটান ও নেপালের যাত্রীদের আকাশ পথে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ বিমানবন্দর। এছাড়াও স্থলবন্দরসহ এ অঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে বিমানবন্দরটি চালু করতে দীর্ঘদিন দাবি করে আসছেন জেলাবাসী। এ দাবি পূরণে বর্তমান সরকার বিমানবন্দরটি চালু করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তাই পরিত্যক্ত রানওয়েতে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণে পরীক্ষা করছে বিমান বাহিনীর যশোর ঘাঁটির একটি টিম। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর যাত্রীবাহী দুইটি ছোট প্লেন কয়েক বার সফলভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করেছে। সম্ভাব্যতা যাচাই করতে কাজ চলছে বলে দাবি করেছেন লালমনিরহাট বিমান বাহিনীর একজন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বিমান বিহিনীর প্রকৌশলীরা এ রানওয়েতে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ করে রানওয়ে স্ক্যান করার পাশাপাশি আকাশসীমাও পরিমাপ করেছেন। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে এটি চালু করা হবে কি না তা জানা যাবে। বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত সরেজমিনে এ বিমানবন্দর পরিদর্শনে বুধবার লালমনিরহাট আসবেন। পরিদর্শন শেষে এ বন্দর থেকে একটি বিমানে তিনি ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করবেন। বিমান বাহিনীর এ কর্মকর্তা আরো বলেন, এ বন্দর চালু করতে হলে সীমানা প্রাচীরসহ বেশ কিছু কাজ করতে হবে। বিভিন্ন দফতরে পাঠানো লালমনিরহাট বিমান বাহিনীর অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার খায়রুল মামুন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে জানা গেছে, লালমনিরহাট বিমান বন্দরটি চালু করতে সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাই বন্দরটির সম্ভবতা যাচাই করতে ফিক্সড উইং (এল ৪১০) উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে নিরাপত্তা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, বিমান বাহিনীর প্রধান বুধবার বন্দরটি পরিদর্শন করে ওই বিমানে উড্ডয়ন করে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে