ডিএ: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নিহত হওয়া ৫ জনের পরিচয় মিলেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১২ জন। গত শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে উপজেলার বালুয়া (জুম্মারঘর) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- বাসের হেলপার লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার দোয়ানী গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে বিদ্যুৎ মিয়া (৩২), লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বোতারছাড়া গ্রামের মহসিন আলীর ছেলে মাহাবুল আলম (২২), রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার তাজপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (২০), টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার বিশ্বাস বতকা গ্রামের ভুপন সরকারের ছেলে সুনিল সরকার (৪৫) ও টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার বল্লাবাজারের ভোলা নাথ সাহার ছেলে বিকাশ চন্দ্র সাহা (৪৫)। বিকাশ চন্দ্র পেশায় একজন এ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ী ছিলেন।আজ শনিবার সকাল ১১টায় গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি আখতারুজ্জামান নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। ওসি বলেন, নিহতদের ১ জন বাসের হেলপার ও ৪ জন যাত্রী ছিলেন। নিহতদের স্বজনদের খবর দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে বিদ্যুৎ ও বিকাশের স্বজনরা হাইওয়ে থানায় এসে লাশ নিয়ে গেছেন। অন্য ৩ জনের পরিবারের স্বজনরাও দুপুরের মধ্যে হাইওয়েতে পৌঁছালে লাশ হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনার জন্য চালকের ঘুম ও বেপরোয়া গতিকেই দায়ি করে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় মহাসড়ক ফাঁকা ছিলো। কিন্তু তারপরেও চালক হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণ হারালে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা না করায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় আনা হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে উপজেলার বালুয়া (জুম্মারঘর) এলাকায় দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ৩ জন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে ২ জনের মৃত্যু হয়। গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই মমিরুল ইসলাম জানান, বরকত ট্রাভেলসের যাত্রীবাহী একটি বাস ঢাকা থেকে বুড়িমাড়ী যাচ্ছিল। পথে বালুয়া এলাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ৫ জন নিহত হন ও আহত হন ১২ জন। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক রবিউল ইসলাম জানান, আহতদের উদ্ধার করে ৩ জনকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৯ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে, নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে