জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে আদালতকে ব্যবহার করছে সরকার: রিজভী

0
3

ডিএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে সরকার আদালতকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, তারেক রহমানকে বিনাশ ও তার স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে ক্ষুণœ করার জন্য হেন কাজ নেই যা এ জনভিত্তিহীন সরকার করছে না। একদিকে তারা তাদের অনুগত কিছু ‘পেইড মিডিয়া’ দিয়ে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ‘হাইপার প্রোপাগান্ডা’ চালাচ্ছে, অন্যদিকে আদালতকে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, সরকার দেশের আদালত ব্যবহার করে তারেক ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের নামে যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংকে থাকা তিনটি হিসাব জব্দের আদেশ করিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। সরকারের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই আদেশ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। মিথ্যা ও সাজানো মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। বিএনপিকে চাপে রাখতে সরকার দুদককে দিয়ে একটি কাল্পনিক ও মিথ্যা আবেদনের মাধ্যমে আদালতকে দিয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এ আদেশ করিয়েছে। এটি একটি আষাঢ়ে গল্প। অর্থ পাচারসহ দুর্নীতির দুটি এবং ২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় দ-িত তারেক বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করে যুক্তরাজ্যে নিয়ে তা বিনিয়োগ করছেন বলে দুদকের দাবি। এজন্য তাদের এক আবেদনে গত বুধবার ঢাকার আদালত তারেক ও তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানের যুক্তরাজ্যের ব্যাংকের তিনটি হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত শুক্রবার বলেছেন, আদালতের ওই আদেশ বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। রিজভী বলেন, যুক্তরাজ্যে তার যা অর্থ আছে, তা ইনল্যান্ড রেভিন্যুতে ট্যাক্স পেইড অর্থ। ইনল্যান্ড রেভিন্যু হচ্ছে সেখানকার ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের মতো। সেখানে আইনের শাসন রয়েছে। সেখানে আনডিসক্লোজড মানি ট্র্যানজেকশন হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ও তাদের আন্দোলনের ফসলরা ১২ বছর ধরে তন্ন-তন্ন করে খুঁজে তারেক রহমানের অবৈধ সম্পদের কোনো সন্ধান পায়নি। অথচ ঢালাওভাবে তার বিরুদ্ধেকত যে মিথ্যা গল্প সাজিয়ে অপপ্রচার করেছে, তার ইয়ত্তা নেই। এখন দুদককে দিয়ে আরেকটি কুৎসা রটনার নতুন অধ্যায় শুরু করল। যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান আইনে আইনসিদ্ধ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আদালতের হস্তক্ষেপের কোনো এখতিয়ার নেই। বিচারের বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতা বলেন, একটি ফিনান্সিয়াল মামলায় তারেক রহমানকে জড়িত করতে চাইলে একটি আদালত তাকে (তারেক রহমান) নির্দোষ রায় দেয়। সেই রায় শেখ হাসিনার নির্দেশিত রায়ের বিপক্ষে যাওয়ায় বিচারক মোতাহার হোসেনকে শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে হয়। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ষোড়শ সংশোধনীর রায় মনঃপুত না হওয়ায় সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশে তাকে অপমান-অপদস্থ করে অস্ত্রের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। সরকারের হুকুমের বাইরে গিয়ে কোনো বিচারকের ন্যায়বিচার করার সাহস এবং সুযোগ নেই। তারেকসহ জিয়া পরিবার এবং বিএনপির বিরুদ্ধে সরকার তার সমর্থিত গণমাধ্যমের মাধ্যমে ‘অপপ্রচার’ চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যেভাবে সুসংগঠিত হচ্ছে, সাংগঠনিক শক্তি বাড়ছে তাতে ক্ষমতাসীন সরকার ভীত হয়ে পড়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশে তারেক রহমানের নামে কাল্পনিক মিথ্যা অভিযোগ সামনে এনেছে তারা। সাধারণত রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে অনেক সময় সরকার ধীরে ধীরে মানুষের কাছ থেকে হারিয়ে যায় বা তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেছে, জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে- গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের যৌথসভায় দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, দেশে একটা প্রবাদ আছে এক কান কাটলে হাঁটে জঙ্গল দিয়ে। দুই কান কাটলে হাঁটে সবার সামনে দিয়ে। কারণ তখন তার লজ্জা-শরম থাকে না। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার এহেন বক্তব্যে গোরস্থানের লাশও খিলখিল করে হেসে উঠবে। মিডনাইট সরকারের লোকদেরও এখন লজ্জা-শরম নেই। তাদের নির্লজ্জ মিথ্যাচার করতে লজ্জাবোধ হয় না। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে রিজভীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে