ডিএ: বগুড়া শহরের দক্ষিণ চেলোপাড়ায় মারুফ ইসলাম পাভেল (৩০) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পাভেল ওই পাড়ার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। এদিকে, হত্যাকা-ের পর পরই নিহত পাভেলের ভগ্নিপতি আবু বক্করকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, দুপুরে পাভেল বাসার তিনতলায় তার শয়নঘরে গুলিবিদ্ধ হন। খবরটি তাৎক্ষণিকভাবে তারই ভগ্নিপতি আবু বক্কর পরিবারের সদস্যদের জানান। একইসঙ্গে তিনি একাই গুলিবিদ্ধ পাভেলকে শয়নঘর থেকে নিচে নামিয়ে আনার পর চিৎকার শুরু করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তারা আরও জানান, কয়েক বছর আগে নিহত পাভেলের বড় ভাই হত্যার শিকার হন। তার আরেক ভাই মারা যান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। বছরখানেক আগে মারা যান পাভেলের বাবা মকবুল হোসেন। বাবা মারা যাওয়ার আগে কয়েকটি বাড়ি ছাড়াও শহর এলাকায় দোকানসহ প্রচুর সহায় সম্পত্তি রেখে গেছেন। এসব বাড়ি ও দোকান থেকে ভাড়া তুলে পাভেল জীবিকা নির্বাহ করতেন। আর সঙ্গে সৎ মাকে নিয়ে একই বাসায় বসবাস করতেন। পাভেলের চার বোন। এরমধ্যে নিজের বোন ঢাকায় বসবাস করেন। আর সৎ তিন বোনের মধ্যে দুই বোন বসবাস করেন বাবার পৈত্রিক বাড়িতে। সবমিলে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বোন ও ভগ্নিপতিদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল পাভেলের। বিষয়গুলো নিয়ে একাধিকবার থানায় দেনদরবারও হয়েছে। এসব বিবেচনায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে পাভেলকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, নিহতের তলপেটে গুলির চিহ্ন রয়েছে। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। এ ঘটনায় নিহতের ভগ্নিপতি আবু বক্করকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে