ডিএ: বগুড়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের আট কর্মচারীর বেতন-ভাতা ও ৩১৪ শিক্ষার্থীর বৃত্তির টাকা তারা এখনও পাননি। তিন মাস প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ না থাকায় এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীরা সংকটের জন্য মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান ও সংশ্লিষ্টদের দায়ী করেছেন। বগুড়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের ঝাড়ুদার জাহানুর দেওয়ান, পাহারাদার সুমন মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফারজানা আকতার, কুক মশালচি লাইলী খাতুন, গাড়িচালক সাইফুল ইসলাম, এমএলএসএস সুরুজ্জামান ও চাঁন মিয়ার এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা জানান, তিন মাস বেতন না হওয়ায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে আছেন। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। বেতন-বোনাস না হওয়ায় তাদের পরিবারে ঈদের খুশি থাকছে না। তারা প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান বলেন, ‘এখানে আমার কোনও অবহেলা নেই; ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ না থাকায় এ সমস্যা হয়েছে। আর যারা অভিযোগ করছেন, তাদের আমার কাছে নিয়ে আসুন। ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ গত শনিবার যোগদান করেছেন; তিনি চেষ্টা করলেই বেতন-বৃত্তি হয়ে যাবে।’
বগুড়া নার্সিং ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, লুৎফুন্নেসা নামে একজন ১৫ জানুয়ারি নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে যোগ দেন। একমাস পর পদায়ন হলে তিনি বগুড়া নার্সিং কলেজে প্রভাষক পদে যোগ দেন। নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ পদ শূন্য থাকায় মুস্তা নুর সুলতানা নামে একজনকে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার আর্থিক ক্ষমতা না থাকায় গত মার্চ থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও শিক্ষার্থীদের মাসিক বৃত্তি (এক হাজার ৮শ টাকা) বন্ধ হয়ে যায়। এ অচলাবস্থা নিরসনে নার্সিং ও মিডওয়াইফারির মহাপরিচালক তন্দ্র শিকদারের গত ১২ মে স্বাক্ষরিত পত্রে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হাসিনা মমতাজকে নিজ বেতনক্রমে বগুড়া নার্সিং ইনস্টিটিউটে নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর পদে পদায়ন করা হয়। এ পদায়ন ঠেকাতে একটি মহল তৎপর হয়। তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামায়। শিক্ষার্থীরা হাসিনা মমতাজের বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং ওই পদে মুস্তা নুর সুলতানাকে রাখতে সপ্তাহব্যাপী হাসপাতাল চত্বরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এ ছাড়া তারা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে ডিজিকে স্মারকলিপি দেন।
এদিকে নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ হাসিনা মমতাজকে যোগদানে বাধা ও তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের আন্দোলনে নামানোর অভিযোগ ওঠে ইনস্ট্রাক্টর মুস্তা নুর সুলতানা ও রহিমা খাতুনের বিরুদ্ধে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের মহাপরিচালক এ বিষয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে পাঠান। এরপরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখায় মহাপরিচালকের নির্দেশে তদন্তে আসেন রাজশাহী বিভাগীয় কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম। তিনি সংশ্লিষ্ট সবা সঙ্গে কথা বলেন এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এরপরও ওই প্রভাবশালী মহল হাসিনা মমতাজের যোগদান বিলম্বিত করতে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে ডিজির কাছে আবেদন করায়। আর এ কালক্ষেপণের কারণে বগুড়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের আট কর্মচারীর বেতন ও ৩১৪ শিক্ষার্থীর বৃত্তি বন্ধ হয়ে যায়। তিন মাসের বেতন-ভাতা ও বৃত্তি না পাওয়ায় তাদের পরিবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকছে।
হাসিনা মমতাজ জানান, তাকে ১৩ মে পদায়ন করা হলেও মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় ৩০ মে। তিনি ১ জুন যোগদান করেছেন। বর্তমানে ট্রেজারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঈদের আগে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা-বোনাস এবং শিক্ষার্থীদের বৃত্তি হচ্ছে না। তিনি এ সংকটের জন্য মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়ী করেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে