ডিএ: বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে স্বামী শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নিহতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিয়ে নানান গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মিন্নির স্বজনরা। ইতোমধ্যে মিন্নির নামে তার ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে খোলা হয়েছে কয়েকটি ভুয়া আইডি। পাশাপাশি তথ্য প্রমাণ ছাড়াই নানান অভিযোগ ও গুজব ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যা নিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে পরতে হচ্ছে খোঁদ প্রশাসনসহ মিন্নি ও নিহত রিফাতের পরিবার এবং স্বজনদের। রিফাতের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী যখন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিন্নিকে নিয়ে তোলপাড় চলছে। গত শনিবার থেকে মিন্নিকে নিয়ে ফেসবুকে শুরু হয়েছে নানান ধরনের গুজব। যারমধ্যে কখনও বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে নয়ন বন্ডকে আটকের গুজব, আবার কখনও বরগুনা থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেনকে প্রত্যাহারের খবরও ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের থেকেও এসব বিষয় সামনে চলে আসছে। যদিও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এ মুহুর্তে রিফাতের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ছাড়া অন্যকোন বিষয় নিয়ে তারা ভাবছেন না। তবে কিছু ঘটনার কারণ যে পরবর্তীতে খতিয়ে দেখা হবে তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। এদিকে রিফাতের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে আসছেন নিহতের তার বাবা-মা, স্ত্রী-শ্বশুরসহ স্বজনরা। মিন্নির মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বা বিভিন্নভাবে তার বিরুদ্ধে যে লেখালেখি বা কথা ছড়ানো হচ্ছে, তা সত্য নয়। যারা এ কাজ করছেন তারা হত্যাকারীদের বাঁচানোর মিশনে নেমেছে। বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী খতিয়ে দেখলে খুনিদের সাথে অপপ্রচারকারীদেরও সম্পৃক্ততা পাবে বলেও তিনি (মিন্নি) উল্লেখ করেন। এছাড়াও তার (মিন্নি) নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব আইডি খোলা হয়েছে তার প্রায়টিই ভুয়া। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর সাংবাদিকদের জানান, আগে থেকেই নয়ন বন্ড ও তার সহযোগিরা নানাভাবে আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলো। তারা নানানভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে। এনিয়ে আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। মিন্নি একা তার স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে, তারপরেও শেষরক্ষা করতে পারেনি। বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় মিন্নিকে বিধবা হতে হয়েছে। নিজের চোখের সামনে স্বামীকে কোপানোর দৃশ্য দেখে মেয়েটা (মিন্নি) কতোটা মানসিক কস্টে রয়েছে তা অপপ্রচারকারীরা কিভাবে বুঝবে। আমরা রিফাতের হত্যাকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতারপূর্বক ফাঁসির দাবি করছি। মিন্নির স্বজনদের দাবী, নয়ন বন্ড ও তার সহযোগিরা বিয়ের আগে ও পরে রাস্তাঘাটে মিন্নিকে নানাভাবে বিরক্ত করতো। নয়ন বন্ডদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বরগুনার কারো প্রতিবাদ করার সাহস ছিলোনা। তাই মিন্নির পরিবারকেও মুখ বুঝে সবকিছু সইতে হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে