ডিএ: দীঘ ৮ বছর পর সরকার স্বীকৃত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে হাওড়-বাঁওড়, পাহাড়িসহ দুর্গম এলাকা এবং নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চলতি অর্থবছরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক হাজার ১৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। আর নতুন ও পুরাতন এমপিওভুক্ত সকল শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা হিসেবে সরকার ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। গত অর্থবছরে এই বরাদ্দ ছিল ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রায় ১০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওর জন্য আবেদন করলেও তার মধ্যে যোগ্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুব বেশি নেই। দুই হাজারেও কম প্রতিষ্ঠান এমপিওর জন্য প্রযোজ্য চার শর্ত শতভাগ পূরণ করতে পেরেছে। তবে দীর্ঘদিন এমপিও বন্ধ থাকার কথা বিবেচনায় নিয়ে আরো কিছু প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে চাচ্ছে সরকার। এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য এমপিওর তালিকায় এসেছে দুই হাজার ৭৬২ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু হাওড়-বাঁওড়, পাহাড়ীসহ দুর্গম এলাকা ও নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়েই ওই তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরো বেড়ে প্রায় তিন হাজার হতে পারে। এমনকি দুর্গম অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে নতুন এমপিও নীতিমালা কিছুটা শিথিল করাও হতে পারে।
সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত তালিকায় আসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১ হাজার ৬২৯টি স্কুল ও কলেজ, ৫৮২টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৫৫১টি মাদ্রাসা রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্ত হওয়ার সব যোগ্যতা রয়েছে। বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে ২৭ হাজার ৮১০টি। ওসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। নতুন আরো তিন হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলে ওই প্রতিষ্ঠান ও আগের ২৭ হাজার ৮১০ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা হিসেবে নতুন অর্থবছরে ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। তার আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এই বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫ হাজার ৬২০ কোটি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৯ হাজার ৬৯১ কোটি, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১০ হাজার ৯৩৩ কোটি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১১ হাজার ১২ কোটি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।
সূত্র আরো জানায়, বিগত ২০১০ সালের পর কোনো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত হয়নি কোন। ওই সময়ে ৭ হাজারেরও বেশি বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাছাড়া ২০১০ সালের আগে একাডেমিক স্বীকৃতি পাওয়া নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানও রয়েছে প্রায় ৩ হাজার। সব মিলিয়ে এমপিওর অপেক্ষায় ১০ হাজারেরও বেশি সরকার স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এমপিওর জন্য ওসব প্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ শিক্ষক কর্মচারী বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করছেন। ২০১১ সাল থেকেই চলছে এমপিওর দাবির আন্দোলন। বিভিন্ন সময় সংসদ সদস্যরাও নিজ এলাকার প্রতিষ্ঠান এমপিওর জন্য একই দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। তবে এবার এমপিও নিয়ে অপেক্ষার অবসান হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওর অপেক্ষায় থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই এমপিওর যোগ্যতা পূরণ করতে পারছে না। ফলে অর্থ সঙ্কটের বাইরে প্রতিষ্ঠানের অযোগ্যতাও এমপিওর পথে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের ৫ থেকে ২০ আগস্ট বেসরকারি স্কুল ও কলেজের কাছ থেকে অনলাইনে এমপিওভুক্তির আবেদন নেয়া হয়। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে আবেদন করে। নতুন এমপিওর জন্য চারটি শর্ত দিয়ে আবেদন করার নির্দেশ দেয়া হয়। ইে চারটি শর্ত হলো-প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতির বয়স, শিক্ষার্থী সংখ্যা, পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পাসের হার। যেসব প্রতিষ্ঠান এই শর্তগুলো পূরণ করেছে তাদের মধ্য থেকে স্বয়ংক্রিয় গ্রেডিংয়ের মাধ্যমে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দেয়ার জন্য বাছাই করা হয়। বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে ২৭ হাজার ৮১০টি। ওসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। প্রতি মাসে এদের বেতনভাতা বাবদ সরকারের খরচ হয় ৯৪২ কোটি টাকা। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারী করার প্রক্রিয়ায় আছে। সর্বশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। এরপর আর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়নি। প্রতিষ্ঠান এমপিওর দাবিতে ওসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের সংগঠন ‘ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন’ বহুদিন যাবত আন্দোলন করছে।
অন্যদিকে এমপিওভুক্তির বাছাই কমিটির সদস্য ও ব্যানবেইসের মহাপরিচালক মোঃ ফসিউল্লাহ জানান, এমপিওভুক্তির জন্য ১০০ নম্বরের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্গম এলাকার যেসব প্রতিষ্ঠান শতভাগ যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, সেগুলোকে কীভাবে বিবেচনায় নেয়া যায় তা ভাবা হচ্ছে। নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অগ্রাধিকার পাবে। তা করা হলে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কিছু বাড়বে। তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি। তবে কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে