শেখ সৈয়দ আলী,ফকিরহাটঃ ফকিরহাট উপজেলার সাধের বটতলা এলাকা থেকে ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত এক আসামীকে র‌্যাব- ৬ এর টহল দল আটক করেছে। বেলা আনুমানিক ২টার সময় র‌্যাব-৬ এর স্পেশাল কোম্পানী কমান্ডার মেজর শামীম সরকারের নেতৃত্বে র‌্যাব-৬ এর একটি টহল দল মহারাজ হাওলাদার (৫৫) নামে ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত এক আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। ওই সময় র‌্যাব-৬ এর ডিএডি শহীদুজ্জামান সহ র‌্যাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আসামীর বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার ভেচকী গ্রামে। সে ঐ গ্রামের আলী হোসেন হাওলাদারের পুত্র। দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর আসামি মহারাজ হাওলাদার ওরফে আবুল কালাম বাগেরহাটের ফকিরহাট নলধা-মৌভোগ এলাকায় বিবাহ করে নাম ঠিকানা পরিবর্তন করে বসবাস করে আসছিল। সে রাজমিস্ত্রির কাজ করতো। ঘটনার বিবরণে জানা যায়- আসামি মহারাজ হাওলাদার বিগত ০৪/০৫/২০০৫ ইং তারিখ রাত আনুমানিক আট ঘটিকার সময় মঠবাড়িয়া থানার ভেচকী সাঁকোর উপর তার নিজ কন্যা জেসমিন আক্তার রিঙ্কু কে গলাটিপে হত্যা করে খালে ফেলে দেয়। আসামি মহারাজ হাওলাদার তার মেয়ে পানিতে পড়ে মারা গেছে মর্মে প্রচার করে। ঐ সময় মঠবাড়িয়া থানায় প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়।পরবর্তীতে গত ইংরেজি ২৫/৯/২০০৫ তারিখ মঠবাড়িয়া থানার তৎকালীন এস আই মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রায় ছয় মাস তদন্ত করে বিগত ১৪/০৪/২০০৬ ইং তারিখ মহারাজ হাওলাদার কে অভিযুক্ত করে দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। যার নং-৩৭।গত ইংরেজি ০৫/০৬/২০০৭ তারিখ বিজ্ঞ আদালত আসামি মহারাজ হাওলাদারের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। মঠবাড়িয়া থানার মামলা নং ১৮, তারিখ ২৫/০৯/২০০৫, জি.আর নং ১৫১/২০০৫ (মঠবাড়িয়া), সেশন মামলা নং ৫৮/২০০৭ মোকদ্দমায় গত ইংরেজি ৩০/১০/২০১৬ তারিখ অতিরিক্ত দায়রা জজ, পিরোজপুর এর বিজ্ঞ বিচারক এস এম জিললুর রহমান আসামী মহারাজ হাওলাদারকে দন্ডবিধির ৩০২ ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে মৃত্যুদন্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করেন।উল্লেখ্য, ৮ বছরের শিশু কন্যা জেসমিন আক্তার রিঙ্কুর নামে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড মঠবাড়িয় শাখায় ১০০০ টাকা কিস্তিতে ১০ বছর মেয়াদী ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার একটি ইসলামী ডিপিএস খোলেন পাষন্ড পিতা মহারাজ হাওলাদার। যা বিগত ২০/০৪/২০০৫ ইং তারিখে ১০০০ টাকার প্রথম কিস্তি পরিশোধ করে বীমা চালু করা হয়। প্রথম কিস্তি দেওয়ার পর বিমা গ্রহীতা মারা গেলে বীমা অংকের সম্পূর্ণ টাকা পাওয়ার আশায় জেসমিন আক্তার রিংকুকে তার পাষন্ড পিতা গলাটিপে হত্যা করে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে