ডিএ: রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে রামপুরা হয়ে সায়েদাবাদ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে শাহবাগ ও মিরপুর রোডে গত রোববার থেকে রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খিলগাঁও-প্রগতি সরণি, বাড্ডা, রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন রিকশাচালক-মালিকরা। এতে, যান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টার পর থেকেই সড়কে অবস্থান নিতে শুরু করেন রিকশাচালক-মালিকরা। এতে খিলগাঁও, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা ও কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাজার মা ও শিশু হাসপাতালের মোড় থেকে বনশ্রী মোড় পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অসংখ্য যানবাহন বিক্ষোভের মাঝে পড়ে একই স্থানে দাঁড়িয়ে আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বাধ্য হয়ে হেঁটেই গন্তব্যে রওয়ানা হয়েছেন কর্মস্থলমুখী অনেক মানুষ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আরমান হোসেন আটকা পড়েছেন বিক্ষোভের কারণে। তিনি বলেন, আমার তিনটা ক্লাসের মধ্যে দু’টি মিস হয়ে গেছে। তৃতীয় ক্লাস না করতে পারলে সাসপেন্ড হয়ে যাবো। হেঁটে হোক, বা যেকোনো উপায়েই হোক, ক্লাস ধরতেই হবে। বেসরকারি চাকরিজীবী মো. আসলাম বলেন, রোববার ছিল হরতাল, গত সোমবার রিকশাচালকদের বিক্ষোভ, আজকেও (গতকাল মঙ্গলবার) সে বিক্ষোভ চলছে। যানজটের কারণে সময়মতো অফিসে যাওয়া যায় না, এ কেমন উন্নয়ন! এর কারণে আমরা ঠিকভাবে অফিসে যেতে পারছি না। স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছি না। বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বাড্ডার একাধিক রিকশাচালক বলেন, আমরা বাঙালি, সরকার আমাদের কাজ করে খেতে দেবে না। কিন্তু, ঠিকই সাত লাখ রোহিঙ্গাদের বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে পারে। রিকশা চালাতে না পারলে কী করে খাবো? চুরি করবো নাকি? বৌদ্ধ মন্দির এলাকার রিকশামালিক মো. সুমন বলেন, যেসব রাস্তায় রিকশা চলাচল বন্ধ করেছে, তা আবার চালু না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আমরা বিক্ষোভ সমাবেশ করবো। এরপর, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। বাড্ডা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল ৮টা থেকে উত্তর বাড্ডা এলাকায় রিকশাচালকরা অবস্থান নিয়েছে। এতে সড়কের দু’পাশেই যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা রাজপথ ছেড়ে কখন উঠবে, বলতে পারছি না। সংশ্লিষ্টরাই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, রিকশাচালক-মালিকদের অবস্থানের কারণে সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে