ডিএ: গ্যাসের দাম কমাতে কোনও অজুহাত না দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। আজ বুধবার দুপুরে নয়া পল্টনে দলের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, কোনও অজুহাত দেখাবেন না। গ্যাসের দাম কমান। গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জনগণ ক্ষোভে ফুঁসছে। অনতিবিলম্বে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা স্থগিত করুন। অন্যথায় রাজপথে নেমে জনগণ দাবি আদায় করে নেবে। বিএনপির নেতার অভিযোগ, দেশের জনগণের প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার নীলনকশা তৈরি করেছে সরকার। তাকে মিথ্যা মামলায় ক্ষমতার মত্ততায় দেড় বছর বন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। তার জামিনে এখন সরাসরি বাধা দিচ্ছেন মিডনাইট নির্বাচনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আদালতে হস্তক্ষেপ করার পাশাপাশি দেশনেত্রীর (খালেদা জিয়া) আইনজীবীদেরও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দেশনেত্রীর ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হচ্ছে না। রুহুল কবির বলেন, উন্নয়ন উন্নয়ন শুনতে শুনতে দেশের জনগণ ক্লান্ত ও মুমূর্ষু হয়ে পড়েছে। সরকারের উন্নয়ন বুলির আড়ালে লুটপাটের মহোৎসবের কাহিনি মানুষ এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। উন্নয়নের কথা বলে জনগণের পকেট কেটে ক্ষমতাসীন দলের লোকজনদের আর ভোট ডাকাতিতে সহযোগিতাকারীদের পকেট ভারি করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, গ্যাসে এই মুহূর্তে কোনও ভর্তুকি নেই। এলএনজি আমদানি করে তার ভর্তুকি দেওয়ার জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। সরকারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং তাদের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন এলএনজি আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচ মেটাতে জনগণের ঘাড়ে গ্যাসের দাম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। রিজভী প্রশ্ন করেন, এলএনজি ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে সাধারণ ভোক্তাদেরকে কেন বাড়তি দাম দিতে হবে? বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক দেশে গ্যাস-বিদ্যূৎ-পানিতে ভর্তুকি দেওয়া হয়। সরকার ভর্তুকি দেয় জনগণের টাকায়। কারণ, এই ক্ষেত্রগুলোতে ভর্তুকি দিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসসহ জীবনযাত্রার মান সহজ ও স্বস্তিদায়ক রাখা হয়। গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে কলকারখানায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সর্বত্রই। সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে দুর্নীতি, অদক্ষতা এবং তারা যে দেশ পরিচালনায় অক্ষম তার প্রমাণ এই গ্যাসের দাম বাড়ানো। রিজভী জানান, গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ কমে গেছে। বিশ্ববাজারে দরপতনের এই সময়ে বাংলাদেশের গণবিরোধী সরকার গ্যাসের দাম গড়ে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্পে বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। সার উৎপাদনে বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। তিনি প্রশ্ন করেন, জীবনযাত্রা ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যে অস্থির অবস্থা। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে যে গ্যাস ভারত কেনে ছয় ডলারে, পাকিস্তান কেনে আট ডলারে, সেখানে বাংলাদেশকে কেন তা ১০ ডলারে কিনতে হবে? দায়দায়িত্ব জনগণকে কেন গ্রহণ করতে হবে? নির্বাচন কমিশনের বিশ্লেষণ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল এবং ওই নির্বাচনে অনিয়ম তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানিয়ে রিজভী বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটের আগের রাতে গোটা দেশে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার দালিলিক প্রমাণ এবার স্বয়ং আওয়ামী লীগের অনুগত ও গভীর আস্থাভাজন নির্বাচন কমিশন নিজেই প্রকাশ করেছে। নির্বাচনের ছয় মাস পরে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রভিত্তিক যে ফলাফল প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গেছে, কোনো নির্বাচনই হয়নি বাংলাদেশে। রিজভী বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের আবেদন পৃথিবীর ইতিহাসে অকল্পনীয় এই ভয়াবহ ভোট চুরি ও ভোট ডাকাতির একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করুন। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিশন করে যারা অনিয়মের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত আপনার। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে ভোটবঞ্চিত ভোটাররা দ্রুত আপনার সুবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে ৪০ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৯টিতে শতভাগ ভোট পড়ার তথ্য সম্প্রতি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা নিজেও বিষয়টিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলেছেন। তবে গেজেট প্রকাশের পর এ নিয়ে আর কিছু করার নেই বলেছেন তিনি। রিজভী বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনও যে ফলাফল প্রকাশ করেছে তাতেও উল্লিখিত তথ্যগুলির বর্ণনা আছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা ৩০ জুন দায় স্বীকার করে বলেছেন, শতভাগ ভোট পড়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে যেটি ফুটে উঠেছে তা হল, এই নির্লজ্জ ভোটারবিহীন সরকারের নির্বাচন কমিশন ৩০ ডিসেম্বরের ভোট নিয়ে ভোটারদের সাথে ‘ফান’ বা হাস্যকৌতুক করেছে। মধ্যরাতে নব আবিষ্কৃত ভোট ডাকাতির অভিনব পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে জালিয়াতি করতে সহায়তা করার জন্য অবশ্যই সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্টদের বিচার হওয়া উচিত।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে